ছুটির বেতন নিয়ে ব্রিটেনে নতুন নিয়ম, নিয়োগকর্তাদের রাখতে হবে ছয় বছরের রেকর্ড
- প্রকাশঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২০
- / 11
লন্ডন, ২৬ সেপ্টেম্বর: ব্রিটেনে কর্মীদের বার্ষিক ছুটি ও ছুটির বেতন নিয়ে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকে নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের নেওয়া ছুটি, ছুটির বেতন, আগের বছর থেকে বহন করা ছুটি এবং চাকরি ছাড়ার সময় অব্যবহৃত ছুটির বিপরীতে দেওয়া অর্থের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসব তথ্য তৈরির তারিখ থেকে অন্তত ছয় বছর সংরক্ষণ করতে হবে। নিয়োগকর্তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজে, কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থায় বা অন্য কোনো উপযুক্ত পদ্ধতিতে রেকর্ড রাখতে পারবেন। তবে প্রয়োজন হলে কর্মীর ছুটির অধিকার ও সঠিক বেতন পরিশোধের প্রমাণ দেখাতে সক্ষম হতে হবে।
ছুটির বেতনের ক্ষেত্রে কোন কোন অর্থের উপাদান হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেটিও রেকর্ডে স্পষ্ট থাকতে হবে। নিয়মিত কমিশন, নির্দিষ্ট ধরনের নিয়মিত ওভারটাইম এবং চাকরির মেয়াদ বা পেশাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু অর্থ ছুটির বেতনের হিসাবের অংশ হতে পারে।
ওভারটাইম ও কমিশন পাওয়া কর্মীদের হিসাব জটিল
নিয়মিত ওভারটাইম, কমিশন, ভাতা বা শিফটভিত্তিক অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া কর্মীদের ছুটির বেতন হিসাব করা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য তুলনামূলক জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা বা নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নেই এমন কর্মীদের ছুটির বেতন নির্ধারণে আগের সময়ের উপার্জনের তথ্য বিবেচনা করতে হয়। সরকারি নির্দেশনায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিয়মিত ওভারটাইম ও কমিশনের মতো অর্থ ছুটির বেতনের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
ফলে মানবসম্পদ ও বেতন ব্যবস্থাপনা বিভাগকে ছুটির হিসাব এবং বেতন পরিশোধের তথ্যের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়, যেখানে আলাদা মানবসম্পদ বা বেতন ব্যবস্থাপনা বিভাগ নেই, সেখানে নতুন রেকর্ড সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা অতিরিক্ত কাজ তৈরি করতে পারে।
কম দেওয়া ছুটির বেতন ফেরত দিতে হতে পারে
কোনো কর্মী আইন অনুযায়ী যতটা ছুটির বেতন পাওয়ার অধিকারী, তার চেয়ে কম অর্থ পেয়ে থাকলে নিয়োগকর্তাকে সেই ঘাটতি পূরণ করতে হতে পারে।
কর্মী ছুটির বেতন নিয়ে আপত্তি জানালে প্রথমে নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছে এসিএএস। সমস্যা সমাধান না হলে কর্মী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে দাবি তুলতে পারেন।
ফেয়ার ওয়ার্ক এজেন্সির নতুন ভূমিকা
যুক্তরাজ্যে ফেয়ার ওয়ার্ক এজেন্সি ৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থাটি শ্রমবাজারের বিভিন্ন অধিকার বাস্তবায়ন ও শ্রমিক শোষণ মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করছে।
তবে ছুটির বেতন সংক্রান্ত সরকারি প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা রয়েছে। সরকারের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ফেয়ার ওয়ার্ক এজেন্সির মাধ্যমে বিধিবদ্ধ ছুটির বেতন কার্যকরভাবে প্রয়োগের কাজ ২০২৭ সালে শুরু হওয়ার কথা।
অন্যদিকে, ছুটির রেকর্ড সংরক্ষণের নতুন আইনি বাধ্যবাধকতা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। কোনো নিয়োগকর্তা ছুটির রেকর্ড না রাখলে বা কর্মীদের অধিকার মেনে চলার প্রমাণ দেখাতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা ও আর্থিক জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কর্মীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন নিয়মের ফলে কর্মীদের ছুটির হিসাব ও ছুটির সময় পাওয়া অর্থ সম্পর্কে নিয়োগকর্তার কাছে আরও স্পষ্ট রেকর্ড থাকার কথা। এতে কোনো কর্মী মনে করলে যে তার ছুটির বেতন সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট হিসাব যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
চাকরি ছাড়ার সময় অব্যবহৃত বিধিবদ্ধ ছুটির বিপরীতে অর্থ দেওয়া হলেও সেই তথ্য রেকর্ডে রাখতে হবে। একইভাবে আগের বছর থেকে বহন করা ছুটির তথ্যও সংরক্ষণ করতে হবে।
ফলে ব্রিটেনে কর্মীদের ছুটি ও ছুটির বেতন এখন শুধু বেতন পরিশোধের বিষয় নয়, এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রেকর্ড সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতাও যুক্ত হয়েছে।





























