শিক্ষক সংকটে ভোগান্তিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা

- প্রকাশঃ ০৮:২০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- / 9
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের অধীনে থাকা পরিসংখ্যান বিভাগে নানাবিধ সংকটের কারণে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম চালু না থাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বল্পতার কারণে বিভাগের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, বিভাগটিতে বর্তমানে স্নাতকের পাঁচটি ব্যাচে অধ্যয়নরত আছেন মোট ১৬২ জন শিক্ষার্থী। এর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন, তবে তাদের মধ্যে একজন ছুটিতে থাকায় কার্যত তিনজন শিক্ষক দিয়েই পুরো একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে প্রতি ২০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে পরিসংখ্যান বিভাগে ৫৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন একজন শিক্ষক।
শিক্ষক সংকটের কারণে এখনো বিভাগে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম চালু করা যায়নি। এর ফলে ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার এই ধাপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তি হয়ে মাস্টার্স করতে গিয়ে তাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এছাড়া বিভাগে ১৬২ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী। সেমিনার লাইব্রেরি থাকলেও লাইব্রেরিয়ান না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দুটি কম্পিউটার ল্যাবে নেই কোনো ল্যাব এটেনডেন্ট বা ডেমোনস্ট্রেটর, ফলে সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিগত সমস্যায় শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে সমাধান খুঁজতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে সমস্যার সমাধান চেয়ে দাবি জানালেও আশ্বাস ছাড়া কোনো বাস্তব পদক্ষেপ মেলেনি। সম্প্রতি (২৪ আগস্ট) শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নূর হোসাইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে আমাদের বিভাগ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে, কিন্তু এতে পাঠ্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন রনি বলেন, মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে এত বড় বিভাগ চালানো সম্ভব নয়। লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারছি না, ল্যাবেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান চাই।
পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোছাঃ তাওয়াবুন্নাহার বলেন, একজন শিক্ষকের ৭-৮টি কোর্স পড়াতে হচ্ছে। এরকম চাপের মধ্যে একাডেমিক মান বজায় রাখা কঠিন। শিক্ষক সংকট থাকায় স্নাতকোত্তরও চালু করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি কর্মচারী সংকটের কারণে বিভাগের বিভিন্ন সুবিধা থেকেও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা বিষয়টি বারবার ইউজিসিকে জানিয়েছি। শুধু পরিসংখ্যান নয়, আরও কয়েকটি বিভাগেই শিক্ষক সংকট রয়েছে। শিগগিরই ইউজিসির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি আবারও উত্থাপন করা হবে। আশা করছি দ্রুতই সমাধান আসবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে।