ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পারিবারিক দ্বন্দ্বে আহত রাসেল, গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা!

  • প্রকাশঃ ১১:২০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 3

ছবি: সংগৃহীত

রাসেল রহমান নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ডিঘর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। ঢাকার বাড্ডায় গদি মিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। রাসেলের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ঢাকার বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং পরে নাসিরনগরে চিকিৎসা নেন। সেই ভিত্তিতে তাঁকে “আহত জুলাইযোদ্ধা  হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয় (গেজেট নম্বর ১৫৬৬, মেডিকেল কেস আইডি ২৭৫৩৯)।

তবে স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই সময়ে রাসেল ঢাকায় ছিলেন না; বরং ৫ আগস্ট ২০২৪ পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধে নিজ বসতবাড়িতে চাচা ফারুক মিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। এ সময় উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাসেল ও ফারুক মিয়া পরস্পরের বিরুদ্ধে আদালত ও থানায় দুটি মামলা করেন।

প্রথমে পারিবারিক দ্বন্দ্ব অস্বীকার করলেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাসেল স্বীকার করেন, আমি আমার চাচার ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য মাথায় আঘাতের ঘটনা মামলায় উল্লেখ করেছিলাম। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সব নথি তাঁর মানিব্যাগে ছিল, কিন্তু মানিব্যাগ হারিয়ে যাওয়ায় কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে পারছেন না।

ফারুক মিয়া জানান, ৫ আগস্ট রাসেলের নেতৃত্বেই পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় সংঘর্ষ হয়েছিল। আমাদের পরিবারও গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় সালিশে মীমাংসা হওয়ায় উভয়পক্ষ মামলা তুলে নিয়েছিল।

প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা মো. আলমগীর মিয়া বলেন, রাসেলের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। যদি সে সত্যিই পারিবারিক মারামারিকে আন্দোলনের সময় আহত হওয়া হিসেবে দেখিয়ে গেজেটে নাম তুলতে পারে, তবে তা আমাদের জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। সঠিক তদন্ত হওয়া জরুরি।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, রাসেল ঢাকার মাধ্যমে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছে। এখন যেহেতু বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

পারিবারিক দ্বন্দ্বে আহত রাসেল, গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা!

প্রকাশঃ ১১:২০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

রাসেল রহমান নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ডিঘর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। ঢাকার বাড্ডায় গদি মিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। রাসেলের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ঢাকার বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং পরে নাসিরনগরে চিকিৎসা নেন। সেই ভিত্তিতে তাঁকে “আহত জুলাইযোদ্ধা  হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয় (গেজেট নম্বর ১৫৬৬, মেডিকেল কেস আইডি ২৭৫৩৯)।

তবে স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই সময়ে রাসেল ঢাকায় ছিলেন না; বরং ৫ আগস্ট ২০২৪ পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধে নিজ বসতবাড়িতে চাচা ফারুক মিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। এ সময় উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাসেল ও ফারুক মিয়া পরস্পরের বিরুদ্ধে আদালত ও থানায় দুটি মামলা করেন।

প্রথমে পারিবারিক দ্বন্দ্ব অস্বীকার করলেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাসেল স্বীকার করেন, আমি আমার চাচার ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য মাথায় আঘাতের ঘটনা মামলায় উল্লেখ করেছিলাম। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সব নথি তাঁর মানিব্যাগে ছিল, কিন্তু মানিব্যাগ হারিয়ে যাওয়ায় কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে পারছেন না।

ফারুক মিয়া জানান, ৫ আগস্ট রাসেলের নেতৃত্বেই পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় সংঘর্ষ হয়েছিল। আমাদের পরিবারও গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় সালিশে মীমাংসা হওয়ায় উভয়পক্ষ মামলা তুলে নিয়েছিল।

প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা মো. আলমগীর মিয়া বলেন, রাসেলের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। যদি সে সত্যিই পারিবারিক মারামারিকে আন্দোলনের সময় আহত হওয়া হিসেবে দেখিয়ে গেজেটে নাম তুলতে পারে, তবে তা আমাদের জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। সঠিক তদন্ত হওয়া জরুরি।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, রাসেল ঢাকার মাধ্যমে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছে। এখন যেহেতু বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”