বৃষ্টির পানিতে আমন চাষে সাশ্রয়, হাসি ফুটেছে হাওরের কৃষকের মুখে

- প্রকাশঃ ১০:২৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
- / 15
বৃষ্টির হওয়ায় আমন চাষে কমেছে সেচ খরচ, শুরুতেই প্রকৃতির কৃপায় স্বস্তি কৃষকরা | ছবি: প্রজন্ম কথা
আষাঢ়–শ্রাবণ মাসে প্রচুর বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এবার আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে ১০ উপজেলার উঁচু এলাকাজুড়ে চলছে বীজ বপন, চারা রোপণ ও নিড়ানি দেওয়ার কাজ। প্রকৃতির অনুকূলে বিনা সেচেই আমন রোপণ করতে পারায় খরচ বাঁচিয়ে স্বস্তি পেয়েছেন কৃষকেরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে চলছে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ। শ্রমিক সংকট নেই, বরং প্রতিদিনই দিনমজুররা চারা তোলা ও রোপণে ব্যস্ত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ২২০ হেক্টর, উফশী ৭৪ হাজার ২০০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৯১০০ হেক্টর জমিতে চাষ হবে। ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকেরা ব্রি ধান-৭৩, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯১, ব্রি ধান-৯২সহ স্থানীয় জনপ্রিয় জাত যেমন পরাঙ্গী, কালামানিক, সূর্যমুখী, মুক্তা ইত্যাদি রোপণ করছেন।
তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি গ্রামের কৃষক রইছ উদ্দিন বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টির পানিতেই রোপণের কাজ শেষ করেছি। আশা করছি এবার ফসল ভালো হবে। একই গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে আলাদা করে সেচ খরচ হয়নি। ফলে ধানের ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার আজমপুর গ্রামের কৃষক ছমেদ আলী জানান, তিনি তিন কেয়ার জমিতে মুক্তা ও ব্রি-৪৯ জাতের ধান রোপণ করেছেন। সময়মতো মেঘ-বৃষ্টি হওয়ায় খরচ কমে গেছে। আল্লাহর রহমতে ভালো ফলনের আশা করছি। একই গ্রামের জসিম উদ্দিনও চার কেয়ার জমিতে আমন রোপণ করেছেন। তার ভাষায়, প্রথমে বৃষ্টি কম ছিল, তবে এখন নিয়মিত বৃষ্টির কারণে খরচ বাঁচছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলায় ৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শতভাগ শেষ হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, এ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬৬ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ৮০ শতাংশ জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। শুরুর দিকে বৃষ্টি না থাকলেও এখন নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সুনামগঞ্জে ৮৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৩০ শতাংশ জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এবার আষাঢ়ের বৃষ্টিতে কৃষকেরা বিনা সেচেই রোপণ করতে পেরেছেন। আশা করছি, আমন চাষে কৃষকেরা লাভবান হবেন।