জামালগঞ্জে উড়াল সড়ক প্রকল্প: কাজ দ্রুত শুরু হবে, জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা

- প্রকাশঃ ১১:৫০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
- / 17
জামালগঞ্জে ‘উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। রোববার দুপুরে তিনি জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা ও রামপুর গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তিনি তাহিরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
উপদেষ্টা জানান, আমাদের সময়ে অনেক প্রকল্প কেটে দেওয়া হলেও উড়াল সেতুর প্রকল্পটি বাদ যায়নি। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি থাকায় পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হবে। যেহেতু প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে, তাই টেন্ডার সম্পন্ন হলে কাজ দ্রুত শুরু হবে।
হাওরাঞ্চলে আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় এ ধরনের স্কুল স্থাপনের সম্ভাবনা নেই। তবে উড়াল সেতু প্রকল্পের জন্য যাদের ব্যক্তিগত ভূমি পড়বে, তাদের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম, উড়াল সেতু প্রকল্প পরিচালক গোলাম মাওলা, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস, ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মোতালেব খাঁন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পিযুষ কান্তি মজুমদার, সাচনা বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মাসুক মিয়া, জামালগঞ্জ উওর ইউপির চেয়ারম্যান মো. হানিফ মিয়া ও সাচনা রামকৃষ্ণ মিশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক বণিক।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর ৩,৪৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল হাওর অঞ্চলে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণ করে কৃষি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সহায়তা করা।
প্রকল্পের আওতায় ১৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৭.৮৬ কিমি অল-সিজন উপজেলা সড়ক, ২০.২৭ কিমি অল-সিজন ইউনিয়ন সড়ক, ১৬.৫৩ কিমি সাবমার্জিবল উপজেলা সড়ক এবং ২২.৮৬ কিমি সাবমার্জিবল ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়ক অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ১০.৮১ কিমি এলিভেটেড (উড়াল) সড়ক এবং ৫,৬৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ৫৭টি ব্রিজ ও ১১৮টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের প্রতিটি উপজেলার সঙ্গে বর্ষার সময়ও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে এবং ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।