বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের ফলাফলে বৈষম্যের শিকার ৬০% শিক্ষার্থী

- প্রকাশঃ ১২:০১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / 3
আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপ | ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষকের বৈষম্যের শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত পরিচালিত তিন মাসের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, শিক্ষকের বৈষম্যের পাশাপাশি ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষকের খারাপ আচরণের শিকার হয়েছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্মচারীরাও বৈষম্যে ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীরা প্রধানত লিঙ্গভিত্তিক, ধর্মীয়, শারীরিক ও জাতিগত বৈষম্যের শিকার হন। সমীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৪২ শতাংশ তরুণ-তরুণী বৈষম্যের শিকার হয়েছেন; যার মধ্যে ছাত্রী ৫১ শতাংশ এবং ছাত্র ৪৯ শতাংশ।
জরিপে উঠে এসেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন (৬০%), হল বা ডরমিটরিতে ১৯%, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ৩৭% এবং বন্ধুবান্ধব আড্ডায় ৩৮% শিক্ষার্থী বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনে ১৮% শিক্ষার্থী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৩১% শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
জরিপ অনুযায়ী, বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীদের ৯০% মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫৫% বিষণ্নতায়, ৪৯% উদ্বেগে, ৩০% ঘুমের সমস্যায় এবং ২২% প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন। ৪৭% শিক্ষার্থী চাপ অনুভব করছেন, ৪৩% একাকিত্বে এবং ৪১% হীনমন্যতায়। ফলস্বরূপ, ৫১% শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না।
বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৫% বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগের পরও কার্যকর পদক্ষেপ পেয়েছেন মাত্র ১১% শিক্ষার্থী। ৪৪% শিক্ষার্থী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় সহায়তা করলেও পদক্ষেপ অকার্যকর ছিল।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েদুল ইসলাম বলেন, “ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।”
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, “শিক্ষকের খারাপ আচরণ ও সহপাঠীর বৈষম্য শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। প্রশাসন ও ছাত্র সংসদকে সম্মিলিতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।”
আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবনা- শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দ্বারা মেন্টরিং, ছয় মাস অন্তর মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, বৈষম্য ও হয়রানি প্রতিরোধে মনিটরিং টিম গঠন, প্রতিটি বিভাগে অভিযোগ বাক্স এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা অভিযোগ সেল, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার চালু, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা।