শালবৃক্ষের মৃত্যু: মঞ্চায়ন করলো নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

- প্রকাশঃ ০১:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
- / 18
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চায়িত পরিবেশ ও মানবিক প্রতিরোধের নাটক | ছবি: প্রজন্ম কথা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হলো নাটক “শালবৃক্ষের মৃত্যু”। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের ‘অভিনয় অনুশীলন’ কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষার অংশ হিসেবে নাটকটির মঞ্চায়ন করেন। নাটকটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা।
২০ ও ২১ আগস্ট দুই দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনের জিয়া হায়দার ল্যাবে নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া আগামী ২৩ আগস্ট নাটকটির তৃতীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে।
সেলিনা হোসেনের “মৃত্যুর সূত্র কী” এবং মহাশ্বেতা দেবীর “শিকার” গল্প অবলম্বনে রচিত এই নাটকটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনসংগ্রাম, শালবনের অস্তিত্ব সংকট এবং শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে মানবিক দলিল হিসেবে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করে।
কাহিনিতে উঠে এসেছে আদিবাসী চরিত্র চলেশ, মেরী ও চলেশের মায়ের সংগ্রামী জীবনচিত্র। পূর্বপুরুষের বনভূমি রক্ষায় নিরন্তর লড়াই করা চলেশ হয়ে ওঠে আত্মপরিচয়ের প্রতীক। অন্যদিকে তরুণী মেরী বন ও সংস্কৃতির পবিত্রতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেয় বন ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে।
নাটকে আদিবাসীদের প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, শিকার উৎসবের মতো সাংস্কৃতিক উপাদান এবং শালবনকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। শালবনের মৃত্যু প্রতীকীভাবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব সংকট ও আত্মপরিচয়ের হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাকে প্রকাশ করে।
নাটকের নির্দেশক ড. সৈয়দ মামুন রেজা বলেন, দুর্বলের উপর ক্ষমতাশালীদের শাসন ও শোষণ মানবসভ্যতার পুরনো অধ্যায়। ক্ষমতার দম্ভে অসংখ্য ভাষা ও সংস্কৃতি বিলীন হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে অনেক সম্প্রদায়। আমাদের নাটক সেই শোষণের বিরুদ্ধে জীবন দিয়ে লড়াই করা মানুষের কাহিনি তুলে ধরে। এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে চলমান অন্যায় ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি।