ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সম্পূরক বৃত্তি হাতে না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ইমতিয়াজ উদ্দিন । জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ১১:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল সম্পূরক বৃত্তির টাকা। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এখনো সেই অর্থ ছাড় না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির টাকা পৌঁছেনি। এতে শিক্ষার্থীরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, পিএইচডি জানান, প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে বাজেট অনুমোদন হয় এবং ধাপে ধাপে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে সম্পূরক বৃত্তির নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। তবে বর্তমানে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন থাকায় বিতরণ করা যায়নি। মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে এই বৃত্তি কার্যকর করবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে যে দাবি আদায় করেছিলাম, সেটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায্য। জবি শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া বাসা, পানি-বিদ্যুৎ বিল ও যাতায়াত খরচে চরম চাপের মধ্যে থাকে। এ অবস্থায় সম্পূরক বৃত্তি শুধু সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও টিকে থাকার অন্যতম ভরসা। কিন্তু টাকা ছাড় না হওয়ায় চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন আশ্বাস দিচ্ছে, বাস্তবায়ন করছে না—এ দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।

ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখার সভাপতি রাকিব বলেন, প্রশাসন সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে ইউজিসি অর্থ ছাড় দেয়, কিন্তু এবারো তারা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আমরা দুই দফা কর্মসূচি পালন করেছি। দ্রুত সঠিক তথ্য না দিলে কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবো।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জবি শাখার সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, উপাচার্য জানিয়েছেন ইউজিসি থেকে অর্থ ছাড় পেলেই বৃত্তি দেওয়া হবে, নীতিমালাও প্রস্তুত। তবে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির দীর্ঘসূত্রিতা যেমন আছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৎপরতাতেও ঘাটতি রয়েছে। আমরা অন্তত তিনবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। বিলম্ব চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের আস্থা হারিয়ে যাবে, তখন প্রশাসনকে ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান,  প্রশাসনের অগ্রগতি না থাকায় তারা হতাশ। অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক টালবাহানা আর সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিয়ে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করব।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

সম্পূরক বৃত্তি হাতে না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশঃ ১১:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল সম্পূরক বৃত্তির টাকা। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এখনো সেই অর্থ ছাড় না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির টাকা পৌঁছেনি। এতে শিক্ষার্থীরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, পিএইচডি জানান, প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে বাজেট অনুমোদন হয় এবং ধাপে ধাপে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে সম্পূরক বৃত্তির নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। তবে বর্তমানে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন থাকায় বিতরণ করা যায়নি। মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে এই বৃত্তি কার্যকর করবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে যে দাবি আদায় করেছিলাম, সেটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায্য। জবি শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া বাসা, পানি-বিদ্যুৎ বিল ও যাতায়াত খরচে চরম চাপের মধ্যে থাকে। এ অবস্থায় সম্পূরক বৃত্তি শুধু সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও টিকে থাকার অন্যতম ভরসা। কিন্তু টাকা ছাড় না হওয়ায় চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন আশ্বাস দিচ্ছে, বাস্তবায়ন করছে না—এ দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।

ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখার সভাপতি রাকিব বলেন, প্রশাসন সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে ইউজিসি অর্থ ছাড় দেয়, কিন্তু এবারো তারা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আমরা দুই দফা কর্মসূচি পালন করেছি। দ্রুত সঠিক তথ্য না দিলে কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবো।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জবি শাখার সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, উপাচার্য জানিয়েছেন ইউজিসি থেকে অর্থ ছাড় পেলেই বৃত্তি দেওয়া হবে, নীতিমালাও প্রস্তুত। তবে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির দীর্ঘসূত্রিতা যেমন আছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৎপরতাতেও ঘাটতি রয়েছে। আমরা অন্তত তিনবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। বিলম্ব চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের আস্থা হারিয়ে যাবে, তখন প্রশাসনকে ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান,  প্রশাসনের অগ্রগতি না থাকায় তারা হতাশ। অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক টালবাহানা আর সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিয়ে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করব।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”