ঈদের দিনে রক্তে রঞ্জিত গাজা: ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২২

- প্রকাশঃ ০৪:০২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ জুন ২০২৫
- / 46
যখন বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা রক্তে রঞ্জিত হয়েছে ইসরায়েলি হামলায়।
ঈদের দ্বিতীয় দিন শনিবারও (৭ জুন) গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় অন্তত ২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও আল জাজিরা।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের পশ্চিমে অবস্থিত একটি আশ্রয়কেন্দ্রে গোলাবর্ষণ চালায় ইসরায়েল। এতে একটি পরিবারের চার সদস্যসহ অন্তত ১২ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। এটি এমন একটি এলাকা যেখানে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা বহু সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, আল জাজিরার খবরে বলা হয়, শনিবার ভোর থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন স্থানে চালানো ধারাবাহিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়ায়। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে উপচে পড়া ভিড় এবং গুরুতর আহতদের সংখ্যাও বাড়ছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেও অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীরা।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত ২৭ মে থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় ১১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ৫৮০ জন আহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৯ জন, যাঁদের খোঁজে স্বজনরা দিশেহারা।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলেও এখনও পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। জাতিসংঘ, ওআইসি ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার এই হামলাকে নিন্দা জানালেও, বাস্তবিক প্রতিরোধ বা শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ কার্যকর হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ ইতোমধ্যেই ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক প্রাণহানি ঘটিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক লক্ষ, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় পুরো অঞ্চলটির মানুষ।
অবরোধ ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত গাজায় এখন চরম খাদ্য, ওষুধ ও নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি হস্তক্ষেপ না হলে অঞ্চলটি শিগগিরই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
প্রতিবেদক: রুশাইদ আহমেদ