বিশ্বে জন্মহার কমছে, তবু বাড়ছে জনসংখ্যা

- প্রকাশঃ ০৯:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
- / 7
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে জন্মহার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, তবে জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৩ সালে প্রতি নারী গড়ে ৫.৩ সন্তান জন্ম দিলেও ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২.২–এ। প্রায় ছয় দশকে জন্মহার অর্ধেকে নেমে এলেও এই সময়ে বিশ্বজনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ।
Statista–র প্রকাশিত The State of Global Fertility প্রতিবেদনে (চার্ট নং 16058) বলা হয়েছে, ১৯৬৩ সালে বিশ্বজনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩.২ বিলিয়ন। ২০২৩ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৮.১ বিলিয়নে। জন্মহার হ্রাসের পরও গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় জনসংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
অঞ্চলভেদে জন্মহারে বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এখনো জন্মহার বিশ্বে সর্বোচ্চ। সোমালিয়া, চাদ, নাইজার ও কঙ্গোতে ২০২৩ সালে প্রতি নারী গড়ে ৬.১ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। আফ্রিকার ৩১টি দেশের মধ্যে ২৯টিতেই প্রতি নারী গড়ে চার বা তার বেশি সন্তানের মা হচ্ছেন।
অন্যদিকে ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে জন্মহার নেমে গেছে ২.১–এর নিচে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় মাত্রারও কম।
জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৈশ্বিক জন্মহার ২.১–এ এসে স্থিত হবে। এটিই সেই সীমা যেখানে বিশ্বজনসংখ্যা দ্রুত বাড়া বন্ধ করে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মহারের এই ধারাবাহিক পরিবর্তন ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সমাজ কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। উন্নত দেশগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় শ্রমশক্তি সংকট দেখা দিতে পারে, অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উচ্চ জন্মহার জনসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: Statista – The State of Global Fertility, Chart 16058