ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের অবস্থা অনেকটা ভারত আর পাকিস্তানের মতো

শাহারিয়া আহমেদ নয়ন
  • প্রকাশঃ ০৫:০৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 19

২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবে সংঘর্ষরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করছে পুলিশ | ছবি: রাজীব ধর


রাজধানীর নিউমার্কেট মানেই শুধু ব্যবসার কেন্দ্র নয়, অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রও। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে আবারও মুখোমুখি হলো ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। কারণ? সেটা নাকি কারও জানা নেই। পুলিশের ভাষ্য, তিন দিন আগে উদ্ভাস কোচিং সেন্টারের আইডি কার্ড নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাই আজকের সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে কয়েকজন আহত হয়েছেন, পুলিশ এসে দুই পক্ষকে আলাদা করেছে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের সম্পর্কটা আসলে কী?

ভারত বনাম পাকিস্তান সিনড্রোম

ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকটা ভারত-পাকিস্তানের মতো। ঢাকা কলেজ নিজেকে ভাবে ভারত- আমরাই ঐতিহ্য, শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের। সিটি কলেজ নিজেকে ভাবে পাকিস্তান- আমাদের ছাড়া প্রতিযোগিতা জমে না, সবকিছুর মজা আমরাই বাড়াই।

দু’জনেরই আলাদা ফ্যানবেস আছে, যারা শপথ করে বলে- আমরাই সেরা! ক্লাস, খেলাধুলা, রাজনীতি, এমনকি আড্ডা- সবখানেই চলে একে অপরকে হারানোর প্রতিযোগিতা।

ঢাকা কলেজের ছাত্ররা গর্ব করে বলে—আমাদের ছাড়া দেশের শিক্ষাই অসম্পূর্ণ। সিটি কলেজের ছাত্ররা পাল্টা জবাব দেয়— তোমরা যত পুরনোই হও, মাঠে নামলে আমরাই দেখাই।

মাঠে খেলাধুলা হোক বা রাজনীতির মঞ্চে- যতক্ষণ না একে অপরকে হারাচ্ছে, ততক্ষণ শান্তি নেই। এমনকি ক্যাম্পাস আড্ডাতেও চলে চিরন্তন তর্ক আমাদের ক্যাম্পাস বড়” বনাম “আমাদের স্টুডেন্ট পাওয়ার বেশি।

তিন দিন আগে উদ্ভাস কোচিং সেন্টারে আইডি কার্ড নিয়ে হাতাহাতি হয়েছিল। সেই ছোট্ট ঘটনাই আজ নিউমার্কেটকে আবারও সংঘর্ষমুখর করে তোলে। পুলিশের মতে, এ ধরনের ছোটখাটো বিষয় থেকেই প্রায়ই বড় ঝামেলা তৈরি হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাইরে গেলে দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা আবার এক কণ্ঠে বলে- 
“ঢাকার কলেজ সেরা, বুঝছো!”

ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের সম্পর্ক আসলে সেই পুরনো ভারত-পাকিস্তানের মতো— শত্রু না থাকলে মজা নেই, আবার শত্রু ছাড়া জীবনও চলে না আজকের সংঘর্ষ হয়তো কিছুদিন পরেই মিলিয়ে যাবে, কিন্তু এই দুই কলেজের চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে শিগগিরই শেষ হচ্ছে না, তা নিশ্চিত।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের অবস্থা অনেকটা ভারত আর পাকিস্তানের মতো

প্রকাশঃ ০৫:০৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবে সংঘর্ষরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করছে পুলিশ | ছবি: রাজীব ধর


রাজধানীর নিউমার্কেট মানেই শুধু ব্যবসার কেন্দ্র নয়, অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রও। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে আবারও মুখোমুখি হলো ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। কারণ? সেটা নাকি কারও জানা নেই। পুলিশের ভাষ্য, তিন দিন আগে উদ্ভাস কোচিং সেন্টারের আইডি কার্ড নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাই আজকের সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে কয়েকজন আহত হয়েছেন, পুলিশ এসে দুই পক্ষকে আলাদা করেছে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের সম্পর্কটা আসলে কী?

ভারত বনাম পাকিস্তান সিনড্রোম

ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকটা ভারত-পাকিস্তানের মতো। ঢাকা কলেজ নিজেকে ভাবে ভারত- আমরাই ঐতিহ্য, শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের। সিটি কলেজ নিজেকে ভাবে পাকিস্তান- আমাদের ছাড়া প্রতিযোগিতা জমে না, সবকিছুর মজা আমরাই বাড়াই।

দু’জনেরই আলাদা ফ্যানবেস আছে, যারা শপথ করে বলে- আমরাই সেরা! ক্লাস, খেলাধুলা, রাজনীতি, এমনকি আড্ডা- সবখানেই চলে একে অপরকে হারানোর প্রতিযোগিতা।

ঢাকা কলেজের ছাত্ররা গর্ব করে বলে—আমাদের ছাড়া দেশের শিক্ষাই অসম্পূর্ণ। সিটি কলেজের ছাত্ররা পাল্টা জবাব দেয়— তোমরা যত পুরনোই হও, মাঠে নামলে আমরাই দেখাই।

মাঠে খেলাধুলা হোক বা রাজনীতির মঞ্চে- যতক্ষণ না একে অপরকে হারাচ্ছে, ততক্ষণ শান্তি নেই। এমনকি ক্যাম্পাস আড্ডাতেও চলে চিরন্তন তর্ক আমাদের ক্যাম্পাস বড়” বনাম “আমাদের স্টুডেন্ট পাওয়ার বেশি।

তিন দিন আগে উদ্ভাস কোচিং সেন্টারে আইডি কার্ড নিয়ে হাতাহাতি হয়েছিল। সেই ছোট্ট ঘটনাই আজ নিউমার্কেটকে আবারও সংঘর্ষমুখর করে তোলে। পুলিশের মতে, এ ধরনের ছোটখাটো বিষয় থেকেই প্রায়ই বড় ঝামেলা তৈরি হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাইরে গেলে দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা আবার এক কণ্ঠে বলে- 
“ঢাকার কলেজ সেরা, বুঝছো!”

ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজের সম্পর্ক আসলে সেই পুরনো ভারত-পাকিস্তানের মতো— শত্রু না থাকলে মজা নেই, আবার শত্রু ছাড়া জীবনও চলে না আজকের সংঘর্ষ হয়তো কিছুদিন পরেই মিলিয়ে যাবে, কিন্তু এই দুই কলেজের চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে শিগগিরই শেষ হচ্ছে না, তা নিশ্চিত।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”