ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কেবল শাস্তি নয়, চাই প্রযুক্তিগত সমাধান

সানজিদা আক্তার লিমা
  • প্রকাশঃ ১০:০০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 6

অনলাইন জুয়া অ্যাপ | ছবি: সংগৃহীত


সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে- মোবাইলে জুয়ার অ্যাপ পাওয়া গেলে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে- এটি কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং কতটা কার্যকর?

শাস্তি প্রদানের বিধান থাকলেও বাস্তবে সমস্যার মূল জায়গায় আঘাত করা যাচ্ছে না। কারণ অধিকাংশ মানুষ জুয়ার প্রতি আসক্ত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের কারণে। অনেক সময় দেখা যায় জনপ্রিয় ইউটিউবার, টিকটকার কিংবা ক্রীড়াবিদরাও এসব অ্যাপস প্রমোট করছেন। তাদের অনুসরণ করে তরুণরা সহজেই জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে।

তাই শুধু ব্যবহারকারীকে শাস্তি না দিয়ে প্রমোটকারীদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রচার বা বিজ্ঞাপনকে যদি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকে, তবে সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

এছাড়া শুধু আইনের ভয় দেখিয়ে অনলাইন জুয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত প্রযুক্তিগতভাবে সমাধান খোঁজা। যেমন গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে জুয়ার অ্যাপ সরানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা, VPN ব্যবহার করেও যেন অ্যাপ চালানো না যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া, এবং bKash–Nagadসহ মোবাইল লেনদেনের মাধ্যমে জুয়ার টাকা আদান প্রদান বন্ধে নজরদারি জোরদার করা।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করে অ্যাপ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া ২ লাখেরও বেশি জুয়ার সাইট ও অ্যাপ ব্লক করেছে, নেপাল ও পাকিস্তানও আদালতের নির্দেশে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করেছে।

অতএব, বাংলাদেশের জন্যও এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে ব্যবহারকারীর পাশাপাশি প্রমোটকারী ও অ্যাপ সরবরাহকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা এবং প্রযুক্তিগতভাবে অ্যাপস সম্পূর্ণরূপে ব্লক করা। না হলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জুয়ার আসক্তি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কেবল শাস্তি নয়, চাই প্রযুক্তিগত সমাধান

প্রকাশঃ ১০:০০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

অনলাইন জুয়া অ্যাপ | ছবি: সংগৃহীত


সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে- মোবাইলে জুয়ার অ্যাপ পাওয়া গেলে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে- এটি কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং কতটা কার্যকর?

শাস্তি প্রদানের বিধান থাকলেও বাস্তবে সমস্যার মূল জায়গায় আঘাত করা যাচ্ছে না। কারণ অধিকাংশ মানুষ জুয়ার প্রতি আসক্ত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের কারণে। অনেক সময় দেখা যায় জনপ্রিয় ইউটিউবার, টিকটকার কিংবা ক্রীড়াবিদরাও এসব অ্যাপস প্রমোট করছেন। তাদের অনুসরণ করে তরুণরা সহজেই জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে।

তাই শুধু ব্যবহারকারীকে শাস্তি না দিয়ে প্রমোটকারীদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রচার বা বিজ্ঞাপনকে যদি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকে, তবে সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

এছাড়া শুধু আইনের ভয় দেখিয়ে অনলাইন জুয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত প্রযুক্তিগতভাবে সমাধান খোঁজা। যেমন গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে জুয়ার অ্যাপ সরানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা, VPN ব্যবহার করেও যেন অ্যাপ চালানো না যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া, এবং bKash–Nagadসহ মোবাইল লেনদেনের মাধ্যমে জুয়ার টাকা আদান প্রদান বন্ধে নজরদারি জোরদার করা।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করে অ্যাপ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া ২ লাখেরও বেশি জুয়ার সাইট ও অ্যাপ ব্লক করেছে, নেপাল ও পাকিস্তানও আদালতের নির্দেশে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করেছে।

অতএব, বাংলাদেশের জন্যও এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে ব্যবহারকারীর পাশাপাশি প্রমোটকারী ও অ্যাপ সরবরাহকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা এবং প্রযুক্তিগতভাবে অ্যাপস সম্পূর্ণরূপে ব্লক করা। না হলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জুয়ার আসক্তি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”