ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনদের নিয়ে সংগঠকদের ভাবনা

ইউনুচ রাতুল | বেরোবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০১:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 4

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনদের দক্ষতা বিকাশে সংগঠনের পরিকল্পনা | ছবি: প্রজন্ম কথা


বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নতুন কুড়ি নতুন প্রাণ হলো নবীনরা। তাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে প্রাণের ক্যাম্পাস। তেমনই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন মুখরিত নবীনদের আনাগোনায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা সুষ্ঠু এবং সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখে। আর এই অবদান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাহায্য করে বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু সংগঠন আছে যার নানামুখী দক্ষতা এবং জ্ঞান অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য বদ্ধপরিকর। তেমন কিছু সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ি, ব্রিউবিএফ, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট ক্রপস।

স্বপ্নসিঁড়ি রংপুর রেলগেট বাবুপাড়ায় বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার তারা বাচ্চাদের বিনামূল্যে পড়ানোর কার্যক্রম পালন করে থাকে। এছাড়া তাদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী ও শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে। এই সংগঠন নিয়ে সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি ফাতিহুল ইসলাম শোভনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেকে খুঁজে বেড়ায়—কোথায় আমি নিজের দক্ষতা ব্যবহার করতে পারব?
নবীনরা যদি স্বপ্নসিঁড়ির সঙ্গে যুক্ত হয়, তারা পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার সুযোগ পাবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করতে গিয়ে তাদের ভেতরে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের ক্ষমতা আর মানবিকতা বাড়বে। সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করে, তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটা শক্ত হয়। শিক্ষা কার্যক্রম, ইভেন্ট আয়োজন, টিমওয়ার্ক—এসবের মাধ্যমে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। ক্যাম্পাসে আমাদের সংগঠনে সবচেয়ে বেশি সদস্য থাকায় এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক নতুন বন্ধুত্ব তৈরি হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমি চাই, নতুনরা শুধু সার্টিফিকেট বা সিভি ভরার জন্য নয়, অন্তর থেকে ভালোবাসা নিয়ে যুক্ত হোক। নবীনদের আমি বলব তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডির বাইরেও সমাজে আলোর মানুষ হতে পারবে, যদি স্বপ্নসিঁড়ির মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হও।

ব্রিউবিএফ (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেট ফোরাম) শিক্ষার্থীদের বিতর্ক শেখায়। এর পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং এবং অর্গানাইজিং শিখতে পারে, যা তাদের জড়তা ও কথাবলার ভয়কে কাটায়। এই সংগঠনটি নিয়ে সংগঠকরা কী ভাবছেন—প্রশ্ন রেখেছিলাম ব্রিউডিএফ-এর বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি ইমরাতুল জান্নাত ঊষার কাছে। তিনি বলেন—
“আমরা নবীনদের নিয়ে যে চিন্তাভাবনা করি, তা হলো একটা জেনারেশন আরেকটা জেনারেশনের থেকে এগিয়ে থাকে। তাই নবীনদের নিয়ে আমাদের নতুন নতুন চিন্তা এবং প্ল্যানিং সাজাতে হচ্ছে, যা আগে করতে হত না। বিতর্ক সার্কিটটা অনেক বড়, তো এখানে নতুন নতুন চিন্তাভাবনার জায়গা আছে। আর আমরা সেই চিন্তাভাবনাকে বিতর্ক সার্কিটে ঢুকাতে চাই। যার ফলে একজন বিতার্কিক তার নিজের মতো করে শিখতে পারে, বুঝতে পারে। আমরা নবীনদের সবসময় ফ্লোর দিয়ে থাকি, তাদের চিন্তাভাবনাগুলোকে বিকাশিত করার চেষ্টা করি। আমাদের সংগঠনে যুক্ত হওয়ার দুটি কারণ আছে। প্রথমত আমরা রেগুলারিটি বজায় রাখি, আমরা সবগুলো সেশন প্রতিনিয়ত করার চেষ্টা করি। দ্বিতীয়ত হলো আমাদের সংগঠনটা আমরা নতুনদের জন্য সবসময় খোলা রাখি। এই দুটি বিষয় আসলে একটা ক্লাব চালানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে দিক থেকে দেখলে আমরা এই দুটি দিককে খুবই গুরুত্ব দিই।”

সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে সবসময় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যাচ্ছে বেরোবির সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। এই সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, বাংলাদেশ।

প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও নবীনদের এক ক্রিয়েটিভ এবং সেচ্ছাসেবক হিসেবে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, বেরোবি সাংগঠনিক জেলায় স্বাগত জানাচ্ছি।একজন নবীন কেন আমাদের সংগঠনে যুক্ত হবে?আমাদের সংগঠন মূলত সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বিভিন্ন সমাজসচেতনমূলক কাজ করে (বৃক্ষরোপণ, ক্লিন ক্যাম্পাস গ্রীন ক্যাম্পাস, স্বাস্থ্য সচেতনতা ইত্যাদি)। পাশাপাশি যারা আমাদের সাথে এই নিঃস্বার্থ সচেতনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকে তাদেরকে আমরা বিভিন্ন ধরনের স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (Workshop, Youth Leadership Training, English Course) সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকি। এছাড়াও আমাদের একটি ডিবেট উইংস এবং রিসার্চ উইংস-এর কার্যক্রম চলমান।
নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে যদি সমাজের ও নিজের ডেভেলপমেন্ট করতে চায় তাহলে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বেরোবিতে স্বাগত।
কথাগুলো বলছিলেন হাসান আলী, জেলা সমন্বয়কারী, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, বেরোবি সাংগঠনিক জেলা।

BNCC বা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর হলো দেশের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারে। এটি শিক্ষার্থীদের সামরিক প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, সামাজিক সেবা এবং জাতীয় কর্মসূচিতে BNCC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ সংগঠন কাজ করে। BNCC নিয়ে নবীনদের নিয়ে কী ভাবছে জানালেন ক্যাডেট (২৩৩২০১৬৬) আবু তৈয়ব ছিদ্দিকী সোহাগ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নবীনদের আগমন সবসময়ই এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। নবীনরা আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা আর নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। ক্যাম্পাসজীবনে নানা ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে, যা তরুণদের দক্ষতা বিকাশে অবদান রাখে। তবে প্রশ্ন হলো—অন্যান্য সংগঠনের ভিড়ে কেন একজন নবীনকে বিএনসিসি (Bangladesh National Cadet Corps) বেছে নেওয়া উচিত?

প্রথমত, বিএনসিসি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি জীবন-শৃঙ্খলা গড়ে তোলার পাঠশালা। এখানে যোগ দিলে নবীনরা শিখে নেয় সময়ানুবর্তিতা, নিয়মশৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার মতো মূল্যবোধ, যা বিশ্ববিদ্যালয়জীবন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন উভয় ক্ষেত্রেই দারুণভাবে কাজে লাগে।
দ্বিতীয়ত, বিএনসিসি সদস্যদের জন্য রয়েছে শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা অর্জনের সুযোগ। নিয়মিত ড্রিল, প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প ও নেতৃত্বের চর্চা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। অন্যদিকে সাধারণ সংগঠনগুলো যেখানে শুধু কিছু নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সেখানে বিএনসিসি তরুণদের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
তৃতীয়ত, দেশপ্রেম ও মানবিকতার শিক্ষা বিএনসিসির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এখানে অংশগ্রহণকারী ক্যাডেটরা দুর্যোগ মোকাবিলা, রক্তদান, সেবা কার্যক্রম ও সমাজ উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ পায়। এটি তাদেরকে শুধু একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
চতুর্থত, বিএনসিসি শুধু ক্যাম্পাসজীবনে নয়, বরং পরবর্তী জীবনে চাকরিক্ষেত্রেও একটি বাড়তি মূল্য যোগ করে। সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন কিংবা যে কোনো পেশাজীবনে বিএনসিসি অভিজ্ঞতা আলাদা মর্যাদা এনে দেয়।

সবশেষে বলা যায়, ক্যাম্পাসের অন্যান্য সংগঠন যেমন সাংস্কৃতিক বা সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়,ফ বিএনসিসি সেই দক্ষতার সাথে যোগ করে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের শক্ত ভিত। তাই যারা নিজেদেরকে একটি পরিপূর্ণ, নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ এবং দায়িত্বশীল তরুণ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়—তাদের জন্য বিএনসিসিই হতে পারে সেরা পছন্দ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনদের নিয়ে সংগঠকদের ভাবনা

প্রকাশঃ ০১:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনদের দক্ষতা বিকাশে সংগঠনের পরিকল্পনা | ছবি: প্রজন্ম কথা


বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নতুন কুড়ি নতুন প্রাণ হলো নবীনরা। তাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে প্রাণের ক্যাম্পাস। তেমনই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন মুখরিত নবীনদের আনাগোনায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা সুষ্ঠু এবং সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখে। আর এই অবদান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাহায্য করে বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু সংগঠন আছে যার নানামুখী দক্ষতা এবং জ্ঞান অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য বদ্ধপরিকর। তেমন কিছু সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ি, ব্রিউবিএফ, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট ক্রপস।

স্বপ্নসিঁড়ি রংপুর রেলগেট বাবুপাড়ায় বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার তারা বাচ্চাদের বিনামূল্যে পড়ানোর কার্যক্রম পালন করে থাকে। এছাড়া তাদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী ও শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে। এই সংগঠন নিয়ে সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি ফাতিহুল ইসলাম শোভনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেকে খুঁজে বেড়ায়—কোথায় আমি নিজের দক্ষতা ব্যবহার করতে পারব?
নবীনরা যদি স্বপ্নসিঁড়ির সঙ্গে যুক্ত হয়, তারা পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার সুযোগ পাবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করতে গিয়ে তাদের ভেতরে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের ক্ষমতা আর মানবিকতা বাড়বে। সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করে, তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটা শক্ত হয়। শিক্ষা কার্যক্রম, ইভেন্ট আয়োজন, টিমওয়ার্ক—এসবের মাধ্যমে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। ক্যাম্পাসে আমাদের সংগঠনে সবচেয়ে বেশি সদস্য থাকায় এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক নতুন বন্ধুত্ব তৈরি হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমি চাই, নতুনরা শুধু সার্টিফিকেট বা সিভি ভরার জন্য নয়, অন্তর থেকে ভালোবাসা নিয়ে যুক্ত হোক। নবীনদের আমি বলব তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডির বাইরেও সমাজে আলোর মানুষ হতে পারবে, যদি স্বপ্নসিঁড়ির মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হও।

ব্রিউবিএফ (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেট ফোরাম) শিক্ষার্থীদের বিতর্ক শেখায়। এর পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিং এবং অর্গানাইজিং শিখতে পারে, যা তাদের জড়তা ও কথাবলার ভয়কে কাটায়। এই সংগঠনটি নিয়ে সংগঠকরা কী ভাবছেন—প্রশ্ন রেখেছিলাম ব্রিউডিএফ-এর বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি ইমরাতুল জান্নাত ঊষার কাছে। তিনি বলেন—
“আমরা নবীনদের নিয়ে যে চিন্তাভাবনা করি, তা হলো একটা জেনারেশন আরেকটা জেনারেশনের থেকে এগিয়ে থাকে। তাই নবীনদের নিয়ে আমাদের নতুন নতুন চিন্তা এবং প্ল্যানিং সাজাতে হচ্ছে, যা আগে করতে হত না। বিতর্ক সার্কিটটা অনেক বড়, তো এখানে নতুন নতুন চিন্তাভাবনার জায়গা আছে। আর আমরা সেই চিন্তাভাবনাকে বিতর্ক সার্কিটে ঢুকাতে চাই। যার ফলে একজন বিতার্কিক তার নিজের মতো করে শিখতে পারে, বুঝতে পারে। আমরা নবীনদের সবসময় ফ্লোর দিয়ে থাকি, তাদের চিন্তাভাবনাগুলোকে বিকাশিত করার চেষ্টা করি। আমাদের সংগঠনে যুক্ত হওয়ার দুটি কারণ আছে। প্রথমত আমরা রেগুলারিটি বজায় রাখি, আমরা সবগুলো সেশন প্রতিনিয়ত করার চেষ্টা করি। দ্বিতীয়ত হলো আমাদের সংগঠনটা আমরা নতুনদের জন্য সবসময় খোলা রাখি। এই দুটি বিষয় আসলে একটা ক্লাব চালানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে দিক থেকে দেখলে আমরা এই দুটি দিককে খুবই গুরুত্ব দিই।”

সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে সবসময় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যাচ্ছে বেরোবির সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। এই সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, বাংলাদেশ।

প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও নবীনদের এক ক্রিয়েটিভ এবং সেচ্ছাসেবক হিসেবে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, বেরোবি সাংগঠনিক জেলায় স্বাগত জানাচ্ছি।একজন নবীন কেন আমাদের সংগঠনে যুক্ত হবে?আমাদের সংগঠন মূলত সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বিভিন্ন সমাজসচেতনমূলক কাজ করে (বৃক্ষরোপণ, ক্লিন ক্যাম্পাস গ্রীন ক্যাম্পাস, স্বাস্থ্য সচেতনতা ইত্যাদি)। পাশাপাশি যারা আমাদের সাথে এই নিঃস্বার্থ সচেতনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকে তাদেরকে আমরা বিভিন্ন ধরনের স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (Workshop, Youth Leadership Training, English Course) সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকি। এছাড়াও আমাদের একটি ডিবেট উইংস এবং রিসার্চ উইংস-এর কার্যক্রম চলমান।
নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে যদি সমাজের ও নিজের ডেভেলপমেন্ট করতে চায় তাহলে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বেরোবিতে স্বাগত।
কথাগুলো বলছিলেন হাসান আলী, জেলা সমন্বয়কারী, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, বেরোবি সাংগঠনিক জেলা।

BNCC বা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর হলো দেশের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারে। এটি শিক্ষার্থীদের সামরিক প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, সামাজিক সেবা এবং জাতীয় কর্মসূচিতে BNCC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ সংগঠন কাজ করে। BNCC নিয়ে নবীনদের নিয়ে কী ভাবছে জানালেন ক্যাডেট (২৩৩২০১৬৬) আবু তৈয়ব ছিদ্দিকী সোহাগ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নবীনদের আগমন সবসময়ই এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। নবীনরা আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা আর নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। ক্যাম্পাসজীবনে নানা ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে, যা তরুণদের দক্ষতা বিকাশে অবদান রাখে। তবে প্রশ্ন হলো—অন্যান্য সংগঠনের ভিড়ে কেন একজন নবীনকে বিএনসিসি (Bangladesh National Cadet Corps) বেছে নেওয়া উচিত?

প্রথমত, বিএনসিসি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি জীবন-শৃঙ্খলা গড়ে তোলার পাঠশালা। এখানে যোগ দিলে নবীনরা শিখে নেয় সময়ানুবর্তিতা, নিয়মশৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার মতো মূল্যবোধ, যা বিশ্ববিদ্যালয়জীবন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন উভয় ক্ষেত্রেই দারুণভাবে কাজে লাগে।
দ্বিতীয়ত, বিএনসিসি সদস্যদের জন্য রয়েছে শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা অর্জনের সুযোগ। নিয়মিত ড্রিল, প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প ও নেতৃত্বের চর্চা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। অন্যদিকে সাধারণ সংগঠনগুলো যেখানে শুধু কিছু নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সেখানে বিএনসিসি তরুণদের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
তৃতীয়ত, দেশপ্রেম ও মানবিকতার শিক্ষা বিএনসিসির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এখানে অংশগ্রহণকারী ক্যাডেটরা দুর্যোগ মোকাবিলা, রক্তদান, সেবা কার্যক্রম ও সমাজ উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ পায়। এটি তাদেরকে শুধু একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
চতুর্থত, বিএনসিসি শুধু ক্যাম্পাসজীবনে নয়, বরং পরবর্তী জীবনে চাকরিক্ষেত্রেও একটি বাড়তি মূল্য যোগ করে। সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন কিংবা যে কোনো পেশাজীবনে বিএনসিসি অভিজ্ঞতা আলাদা মর্যাদা এনে দেয়।

সবশেষে বলা যায়, ক্যাম্পাসের অন্যান্য সংগঠন যেমন সাংস্কৃতিক বা সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়,ফ বিএনসিসি সেই দক্ষতার সাথে যোগ করে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের শক্ত ভিত। তাই যারা নিজেদেরকে একটি পরিপূর্ণ, নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ এবং দায়িত্বশীল তরুণ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়—তাদের জন্য বিএনসিসিই হতে পারে সেরা পছন্দ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”