ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত প্রার্থীদের আয়ে শীর্ষে শিশির মনির ব্যাংকে জমা মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা, বার্ষিক আয় ৫১ লাখের বেশি

তুর্য দাস। সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ১২:৫২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 62

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে তাঁদের আয়, সম্পদ ও মামলার তথ্য উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া এসব হলফনামা অনুযায়ী, জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন সুনামগঞ্জ–২ আসনের প্রার্থী, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

হলফনামা অনুযায়ী, আইন পেশা থেকে মোহাম্মদ শিশির মনিরের বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে তাঁর আয় দেখানো হয়েছে ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর নামে জমাকৃত অর্থ রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা।

সুনামগঞ্জ–১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহমদ শিক্ষকতা পেশা থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৭০ হাজার ৮৪১ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে তাঁর আয় ১১ হাজার ১১০ টাকা। পাশাপাশি তাঁর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৩ টাকা। হলফনামায় তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রের তথ্য রয়েছে। স্থাবর সম্পদের তালিকায় কৃষি ও অকৃষি জমি এবং একটি ভবনের উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ–২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরের হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, মোটরযান, স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক পণ্যের তথ্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বামী–স্ত্রীর নামে ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য পরিমাণের তথ্য রয়েছে। স্থাবর সম্পদের অংশে তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় দুই একর অকৃষি জমির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ–৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, ব্যাংক আমানত ও শেয়ারের তথ্য রয়েছে। স্থাবর সম্পদের তালিকায় কৃষিজমির উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, তিনি অতীতে ৩৬টি মামলার আসামি ছিলেন, যার মধ্যে বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সুনামগঞ্জ–৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন আইন পেশা থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া কৃষি খাত ও ভাড়াভিত্তিক আয়ও রয়েছে তাঁর। হলফনামায় তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, মোটরযান, স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক পণ্যের তথ্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ–৫ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ভাড়া ও ব্যবসা খাত থেকে বার্ষিক আয়ের তথ্য দিয়েছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, মোটরযান, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রের উল্লেখ রয়েছে। হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আয় ও সম্পদের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

জামায়াত প্রার্থীদের আয়ে শীর্ষে শিশির মনির ব্যাংকে জমা মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা, বার্ষিক আয় ৫১ লাখের বেশি

প্রকাশঃ ১২:৫২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে তাঁদের আয়, সম্পদ ও মামলার তথ্য উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া এসব হলফনামা অনুযায়ী, জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন সুনামগঞ্জ–২ আসনের প্রার্থী, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

হলফনামা অনুযায়ী, আইন পেশা থেকে মোহাম্মদ শিশির মনিরের বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে তাঁর আয় দেখানো হয়েছে ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর নামে জমাকৃত অর্থ রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৩০০ টাকা।

সুনামগঞ্জ–১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহমদ শিক্ষকতা পেশা থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৭০ হাজার ৮৪১ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে তাঁর আয় ১১ হাজার ১১০ টাকা। পাশাপাশি তাঁর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৩ টাকা। হলফনামায় তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রের তথ্য রয়েছে। স্থাবর সম্পদের তালিকায় কৃষি ও অকৃষি জমি এবং একটি ভবনের উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ–২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরের হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, মোটরযান, স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক পণ্যের তথ্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বামী–স্ত্রীর নামে ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য পরিমাণের তথ্য রয়েছে। স্থাবর সম্পদের অংশে তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় দুই একর অকৃষি জমির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ–৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, ব্যাংক আমানত ও শেয়ারের তথ্য রয়েছে। স্থাবর সম্পদের তালিকায় কৃষিজমির উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, তিনি অতীতে ৩৬টি মামলার আসামি ছিলেন, যার মধ্যে বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সুনামগঞ্জ–৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন আইন পেশা থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া কৃষি খাত ও ভাড়াভিত্তিক আয়ও রয়েছে তাঁর। হলফনামায় তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, মোটরযান, স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক পণ্যের তথ্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ–৫ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ভাড়া ও ব্যবসা খাত থেকে বার্ষিক আয়ের তথ্য দিয়েছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, মোটরযান, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রের উল্লেখ রয়েছে। হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আয় ও সম্পদের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”