২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
- প্রকাশঃ ০৩:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / 22
ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বুধবার (৭ জানুয়ারি) এ আদেশ দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক আসামি হিসেবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
এর আগে গত রোববার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তাঁর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে মালিক হিসেবে দেখিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরে জাল নথিপত্রের মাধ্যমে ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।
দুদক জানায়, ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ইউসিবি ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়। ওই সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন রুখমিলা জামান। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী কার্যত ‘ডি-ফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বোর্ড সভায় উপস্থিত থেকে ঋণ অনুমোদনে প্রভাব বিস্তার করতেন।
ঋণের অর্থের মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের পূর্বের দায় পরিশোধে ব্যয় করা হয়। অবশিষ্ট ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা ইউসিবি ব্যাংকের জুবিলি রোড শাখা থেকে নগদে উত্তোলন করা হয়।
দুদকের দাবি, এই অর্থ হুন্ডি ও হাওলা পদ্ধতিতে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পাচার করা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্ত চলাকালে রুখমিলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াসের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথিপত্র ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নথিপত্রে বিদেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের এক হাজার ১০০টির বেশি ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান।
এর আগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার পরও তাঁরা দেশ ত্যাগ করেন।
দুদক জানায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত নয়টি দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, দুবাইয়ে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১০টি বাড়ির তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াতেও তাঁর সম্পদের সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।


























