ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে ইনসাফপূর্ণ আচরণ হয়নি: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 25

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে কখনোই ন্যায্য ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেনি। সেই বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নীরব প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, যার ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ ও বিপুল ত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৩ বছর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে চলেছি। কিন্তু সেই সময় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেননি। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই সত্তরের নির্বাচন ছিল এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ। পরবর্তীতে সেই নির্বাচনই মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি করে দেয় এবং অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সংকটময় সময়গুলোতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশ একটি সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে। সেনাবাহিনীর অবদান উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আমার ও আমার দলের উপলব্ধি হলো, আগস্টের ৩, ৪ ও ৫ তারিখে আপনারা যে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তা না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামের পেছনে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। বরং পুরো জাতি ও বিপ্লবী জনগণই এ ইতিহাসের প্রকৃত নায়ক। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দল হিসেবে কখনোই কোনো পরিবর্তন বা বিপ্লবের কৃতিত্ব দাবি করি না। বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণই এই ইতিহাসের মাস্টারমাইন্ড।

নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দেবেন—এই পরিবেশ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। বিগত নির্বাচনের মতো কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা চাই না।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯০ বছরের শোষণমূলক দাসত্বের শৃঙ্খল ছিঁড়ে উপমহাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিন অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই জনগণের নীরব প্রতিরোধই ছিল স্বাধীনতার প্রথম ধাপ, যা শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশকে উপহার দেয়।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে ইনসাফপূর্ণ আচরণ হয়নি: জামায়াত আমির

প্রকাশঃ ০২:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে কখনোই ন্যায্য ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেনি। সেই বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নীরব প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, যার ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ ও বিপুল ত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৩ বছর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে চলেছি। কিন্তু সেই সময় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেননি। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই সত্তরের নির্বাচন ছিল এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ। পরবর্তীতে সেই নির্বাচনই মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি করে দেয় এবং অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সংকটময় সময়গুলোতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশ একটি সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে। সেনাবাহিনীর অবদান উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আমার ও আমার দলের উপলব্ধি হলো, আগস্টের ৩, ৪ ও ৫ তারিখে আপনারা যে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তা না হলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামের পেছনে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। বরং পুরো জাতি ও বিপ্লবী জনগণই এ ইতিহাসের প্রকৃত নায়ক। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দল হিসেবে কখনোই কোনো পরিবর্তন বা বিপ্লবের কৃতিত্ব দাবি করি না। বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণই এই ইতিহাসের মাস্টারমাইন্ড।

নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দেবেন—এই পরিবেশ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। বিগত নির্বাচনের মতো কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা চাই না।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯০ বছরের শোষণমূলক দাসত্বের শৃঙ্খল ছিঁড়ে উপমহাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিন অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই জনগণের নীরব প্রতিরোধই ছিল স্বাধীনতার প্রথম ধাপ, যা শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশকে উপহার দেয়।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”