ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদের দাবিতে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম: ট্রাইব্যুনালে পলক

  • প্রকাশঃ ০৩:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 22

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দাবি করেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন এবং এ সিদ্ধান্তের কথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক এসব কথা বলেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট জুলাই আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মন্ত্রিসভায় ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং পদত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পলকসহ সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে শুনানি শেষ করেছেন আইনজীবীরা। এদিন পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

শুনানিতে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ সরকারের বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলকের কোনো আইনগত দায় নেই। তাই তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

অন্যদিকে পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে শুনানিতে মনজুর আলম বলেন, জয়ের নির্দেশে পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়েছেন—এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ ওই পোস্টে জয়কে ট্যাগ করা হয়নি এবং জয় নিজেও সেখানে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করেননি।

তিনি আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় সরকারের একজন অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার অধীনে কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ছিল না। ফলে মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নেই।

মনজুর আলম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, শেখ হাসিনার পুত্র হওয়ায় ভবিষ্যতে জয় রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্বে আসতে পারেন—এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ কারণে তার অব্যাহতি প্রার্থনা করা হচ্ছে।

সব পক্ষের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

ছাত্রদের দাবিতে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম: ট্রাইব্যুনালে পলক

প্রকাশঃ ০৩:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দাবি করেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন এবং এ সিদ্ধান্তের কথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক এসব কথা বলেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট জুলাই আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মন্ত্রিসভায় ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং পদত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পলকসহ সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে শুনানি শেষ করেছেন আইনজীবীরা। এদিন পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

শুনানিতে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ সরকারের বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলকের কোনো আইনগত দায় নেই। তাই তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

অন্যদিকে পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে শুনানিতে মনজুর আলম বলেন, জয়ের নির্দেশে পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়েছেন—এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ ওই পোস্টে জয়কে ট্যাগ করা হয়নি এবং জয় নিজেও সেখানে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করেননি।

তিনি আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় সরকারের একজন অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার অধীনে কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ছিল না। ফলে মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নেই।

মনজুর আলম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, শেখ হাসিনার পুত্র হওয়ায় ভবিষ্যতে জয় রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্বে আসতে পারেন—এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ কারণে তার অব্যাহতি প্রার্থনা করা হচ্ছে।

সব পক্ষের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”