দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা সবার থাকা উচিত: জাইমা রহমান
- প্রকাশঃ ০৮:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 33
দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার মানসিকতা সবার মধ্যে থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেন, ভিন্ন মত ও আদর্শ থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে আলোচনা ও একে অপরের কথা শোনাই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা ফোরাম আয়োজিত ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এটিই ছিল জনপরিসরে জাইমা রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
প্রথমবারের মতো কোনো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাইমা রহমান বলেন, “আজ এখানে উপস্থিত সবার আদর্শ, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু আমরা সবাই দেশের মঙ্গলের কথা ভাবছি। এই বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই একে অপরের কথা শোনা এবং সুস্থ আলোচনা করাই হলো গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য।”
তিনি বিনয়ের সঙ্গে উল্লেখ করেন, “আমি এমন কেউ নই যার কাছে সব সমস্যার সমাধান আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, নিজের অবস্থান থেকে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার থাকা উচিত। আমি এখানে এসেছি শুনতে, শিখতে এবং সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগোতে।”
নারীদের অধিকার ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার জাইমা বলেন, “দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। এই বিশাল অংশকে পেছনে রেখে বাংলাদেশ কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে না। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য নারীদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ও কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীদের উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় হলো অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বা ‘একসেস টু ফাইন্যান্স’। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে নানা বৈষম্যের শিকার হন। স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পর নারীরা যে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তা মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ সরকারকে এখনই পরিকল্পনা করতে হবে।
ব্র্যাকের সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা তামারা আবেদ বলেন, নারীদের কেবল সংখ্যা হিসেবে না দেখে ‘মানবসম্পদ’ বা হিউম্যান ক্যাপিটাল হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। তাঁদের সুপ্ত সম্ভাবনা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ঢাকা ফোরাম আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও নারী নেত্রীবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জাইমা রহমান বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় নিজের উপস্থিতির একটি শক্তিশালী বার্তা দিলেন।






























