ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের জরিপ: তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান কত শতাংশ মানুষ?
- প্রকাশঃ ০৯:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 15
নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বিএনপির প্রতি জনসমর্থন শক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইনোভেশন কনসাল্টিং। বেসরকারি এই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’–এর তৃতীয় রাউন্ডের জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। জরিপটি পরিচালিত হয় বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায়।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পেপস’-এর তৃতীয় রাউন্ডে দেখা গেছে, আগের রাউন্ডে যাঁরা জামায়াতে ইসলামী বা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে ছিলেন, তাঁদের একটি অংশের সমর্থন বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যেও বিএনপির দিকে ঝোঁকার প্রবণতা বেড়েছে।
জরিপের তথ্যমতে, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কে হতে পারেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন।
এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী সম্পর্কে জানতে চাইলে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁদের এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানান। আগের রাউন্ডের তুলনায় তৃতীয় রাউন্ডে বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
জামায়াতের ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় দলটির সমর্থকদের ভোট কোথায় যাবে, তা নিয়েও জরিপে বিশ্লেষণ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে মত দিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।
আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা কিছু ভোটারের সমর্থনও বিএনপির দিকে যাচ্ছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের মধ্যেও বিএনপির প্রতি ঝোঁক তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
ভোটের সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, যাঁরা দলীয় পছন্দ প্রকাশ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। আর ১৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা দলীয় পছন্দ প্রকাশ করেননি।
গণভোট প্রসঙ্গে জরিপে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ গণভোটে প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, গণভোট সম্পর্কে তাঁরা জানেন না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গণভোট নিয়ে জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা ও মতামতের পার্থক্য রয়েছে।






























