২০২৫ এর ট্রান্সফার উইন্ডো তে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিশ্বমঞ্চের ক্লাব গুলো

- প্রকাশঃ ০৮:৪২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
- / 21
২০২৫ সালের সামার ট্রান্সফার উইন্ডো ফুটবল বিশ্বে রেকর্ড ভাঙা সই এবং আর্থিক দাপটের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়েছে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে ক্লাবগুলো মিলিয়ে খরচ করেছে ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি। প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, সিরি আ থেকে শুরু করে সৌদি প্রো লিগ—সব লিগেই আলোচনায় এসেছে একের পর এক বড় অঙ্কের ডিল।
এবারের ট্রান্সফার মার্কেটে সবচেয়ে আলোচিত ছিল লিভারপুল। বায়ার লেভারকুসেন থেকে ফ্লোরিয়ান উইর্টজকে ১১৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে কিনে তারা ক্লাব ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সই সম্পন্ন করেছে। এছাড়া মিলোস কেরকেজ (৪০ মিলিয়ন) ও জেরেমি ফ্রিম্পং (২৯.৫ মিলিয়ন) যোগ দিয়েছেন অ্যানফিল্ডে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও পিছিয়ে নেই। তারা আরবি লিপজিগ থেকে বেঞ্জামিন শেসকোকে ৭৩.৭ মিলিয়ন এবং ব্রেন্টফোর্ড থেকে ব্রায়ান এমবেউমোকে ৭১ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে টেনেছে। আর্সেনাল সই করিয়েছে মার্টিন জুবিমেন্ডি (৫১.৩ মিলিয়ন) ও ভিক্টর গায়োকেরেসকে (৬৩.৫ মিলিয়ন), যা তাদের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সৌদি প্রো লিগের ক্লাবগুলোও এবারের বাজারে আলোচনায়। আল-নাসর দলে টেনেছে বার্সেলোনার ইনিগো মার্টিনেজ ও চেলসির জোয়াও ফেলিক্সকে (৪৩.৭ মিলিয়ন)। আল-হিলাল লিভারপুল থেকে ডারউইন নুনেজকে কিনেছে ৫৬.৬ মিলিয়নে।
তুরস্কেও রেকর্ড সৃষ্টি করেছে গালাতাসারাই। তারা নাপোলির ভিক্টর ওসিমহেনকে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে টেনে তুর্কি ফুটবলে সর্বোচ্চ ট্রান্সফারের রেকর্ড গড়েছে।
তরুণ প্রতিভা নিয়েও কম চমক নেই। চেলসি কিনেছে ১৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার এস্তেভাও উইলিয়ানকে (২৯ মিলিয়ন)। রিয়াল মাদ্রিদ নিয়েছে ১৯ বছরের ডিফেন্ডার ডিন হুইজসেনকে (৫০ মিলিয়ন)।
একইসঙ্গে লোন ডিলেও চলছে জমজমাট বাজার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মার্কাস র্যাশফোর্ড গেছেন বার্সেলোনায় লোনে।
আর্সেনালের সঙ্গে গুজব ছিল বেঞ্জামিন শেসকোর নাম, যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি গেছেন ম্যান ইউনাইটেডে। অন্যদিকে, লিভারপুল নিউক্যাসলের আলেকজান্ডার ইসাকের জন্য ৭৫ মিলিয়নের অফার দিয়েছে। এদিকে ম্যানচেস্টার সিটি ও রিয়াল মাদ্রিদ লড়ছে তুর্কি তরুণ তারকা কেনান ইলদিজকে পেতে।
ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের কারণে এবারের ট্রান্সফার উইন্ডোর সময়সূচি কিছুটা ভিন্ন হলেও এতে গতি এসেছে দ্বিগুণ। প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলো এখন পর্যন্ত ১৮০ মিলিয়ন, লা লিগা ৯৫ মিলিয়ন এবং সিরি আ ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে।
শুধু অর্থের খেলা নয়, বরং কৌশলগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার মিশেলে নতুন মৌসুমের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ক্লাবগুলো।
১ সেপ্টেম্বর ডেডলাইনের আগে ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে আরও বড় চমকের।