ইরানের জলসীমা থেকে নিজেদের জাহাজকে এড়িয়ে চলতে বলল কেন যুক্তরাষ্ট্র
- প্রকাশঃ ১১:৫৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 48
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইরান অতীতে একাধিকবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। প্রণালির একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এসব জাহাজ চোরাচালানে জড়িত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সোমবার প্রকাশিত নির্দেশনায় মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে যতটা সম্ভব ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী যদি কোনো জাহাজে ওঠার অনুমতি চায়, তবে তা মৌখিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ‘নৌ চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে যতটা সম্ভব ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে।’
তবে ইরানি বাহিনী জাহাজে ওঠার চেষ্টা করলে প্রতিরোধ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বিমানবাহী রণতরির নেতৃত্বে একটি মার্কিন নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মোতায়েন করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী মাসকাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ভালোভাবে শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
ওমানের ওই আলোচনায় উভয় পক্ষই তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার ইঙ্গিত দেয়। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।
ওমানে আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই এক নির্বাহী আদেশ জারি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পণ্য আমদানি করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।













