বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ‘চালবাজি’ করলে কঠোর শুল্ক আরোপ হবে: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
- প্রকাশঃ ০১:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 31
হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে টালবাহানা বা ‘চালবাজি’ করবে, তাদের ওপর আরও চড়া হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।
নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আদালতের রায়কে অজুহাত বানিয়ে কোনো দেশ যেন আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না আসে। তিনি লেখেন,
“সুপ্রিম কোর্টের হাস্যকর রায় নিয়ে যেসব দেশ চালবাজি করতে চায়—বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘লুট’ করেছে—তাদের আরও চড়া শুল্কের মুখে পড়তে হবে। তারা যে শুল্কে রাজি হয়েছিল, পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ হবে।”
আদালতের রায় ও শুল্কনীতি
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আগের আরোপ করা বড় অঙ্কের শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করেন। আদালত ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বলেন, এই আইন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ভিন্ন আইনের আশ্রয় নিয়ে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক ঘোষণা করে, যা দ্রুত বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। কিছু পণ্য বাদে এই নতুন শুল্ক মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
ইউরোপ ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
আদালতের রায়ের পর বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রীষ্মে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত একটি সাম্প্রতিক চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য নির্ধারিত আলোচনা পিছিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যও চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছে—তাদের সঙ্গে হওয়া ১০ শতাংশ শুল্কের চুক্তিটি বহাল থাকবে কি না, কারণ ট্রাম্প নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ঘোষণায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আমরা অনুধাবন করছি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনগণকে সুরক্ষায় সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মন্তব্য
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্ন্ড লাঙ্গে বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অনুমোদিত চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে “আগের চেয়ে বেশি অনিশ্চিত” বলে মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আদালতের রায়ের ফলে তাদের বাণিজ্যনীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্য আইন ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ অব্যাহত রাখা হবে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যে ‘সেকশন ১২২’ আইনের আওতায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি ‘সেকশন ৩০১’ আইনের অধীনে ‘অন্যায্য’ বাণিজ্যচর্চার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, বাস্তবায়নের আইনি পথ পরিবর্তিত হতে পারে, তবে নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি আরও জানান, হোয়াইট হাউস স্বাক্ষরিত চুক্তির পাশে থাকবে এবং সহযোগী দেশগুলোর কাছ থেকেও একই প্রত্যাশা করে।













