ঢাকা ০৯:৫৯ , Tue, ২০ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটি ৩০ লাখ শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার দিতে চান ইলন মাস্ক

আয়ান সরকার
  • প্রকাশঃ ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫২
  • / 7
যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুকে আগামী বছর স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ শিশুকে শেয়ার দেওয়া হলে বর্তমান বাজারদরে এর মূল্য হতে পারে ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ২০ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুকে আগামী বছর নিজের মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। তবে শেয়ার বিতরণের পদ্ধতি, যোগ্যতা নির্ধারণ ও অর্থায়ন নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ শিশু রয়েছে। প্রত্যেককে একটি করে শেয়ার দেওয়া হলে বর্তমান বাজারদরে এর মোট মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। শেয়ারপ্রতি প্রায় ১৪৬ ডলার ধরে এ হিসাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক শিশুকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় সরাসরি অংশীদার করার উদ্যোগ হিসেবে এটি উল্লেখযোগ্য হবে। তবে কারা শেয়ার পাওয়ার যোগ্য হবেন, কীভাবে শেয়ার হস্তান্তর করা হবে এবং কবে থেকে বিতরণ শুরু হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।

মাস্কের ঘোষণার পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট শেয়ারের অন্তত ৫ শতাংশ একটি জনকল্যাণমূলক তহবিলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের কারণে যাঁরা চাকরি হারাতে পারেন, তাঁদের সহায়তায় তহবিলের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

এর জবাবে মাস্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি শেয়ার বিতরণের ধারণা সামনে আনেন এবং নিজেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্য আর্থিক হিসাব ও অনুদান কার্যক্রম শুরু করেছে। এ কর্মসূচিতে যোগ্য শিশুদের জন্য এক হাজার ডলার করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া গত জুলাইয়ে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েল ও তাঁর স্বামী ২০ লাখ শিশুকে স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দানের অঙ্গীকার করেছিলেন।

অন্যদিকে, মাস্কের নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ফাউন্ডেশনটির সম্পদের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, ফাউন্ডেশনের অর্থের বড় অংশ মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে গেছে।

শিশুদের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার বিতরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ বণ্টন, শিশুদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি খাতের মালিকানায় অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক শর্ত ও প্রক্রিয়া প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত পরিধি স্পষ্ট হবে না।

সূত্র: সিএনএন

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটি ৩০ লাখ শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার দিতে চান ইলন মাস্ক

প্রকাশঃ ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫২

ওয়াশিংটন, ২০ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুকে আগামী বছর নিজের মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। তবে শেয়ার বিতরণের পদ্ধতি, যোগ্যতা নির্ধারণ ও অর্থায়ন নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ শিশু রয়েছে। প্রত্যেককে একটি করে শেয়ার দেওয়া হলে বর্তমান বাজারদরে এর মোট মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। শেয়ারপ্রতি প্রায় ১৪৬ ডলার ধরে এ হিসাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক শিশুকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় সরাসরি অংশীদার করার উদ্যোগ হিসেবে এটি উল্লেখযোগ্য হবে। তবে কারা শেয়ার পাওয়ার যোগ্য হবেন, কীভাবে শেয়ার হস্তান্তর করা হবে এবং কবে থেকে বিতরণ শুরু হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।

মাস্কের ঘোষণার পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট শেয়ারের অন্তত ৫ শতাংশ একটি জনকল্যাণমূলক তহবিলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের কারণে যাঁরা চাকরি হারাতে পারেন, তাঁদের সহায়তায় তহবিলের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

এর জবাবে মাস্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি শেয়ার বিতরণের ধারণা সামনে আনেন এবং নিজেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্য আর্থিক হিসাব ও অনুদান কার্যক্রম শুরু করেছে। এ কর্মসূচিতে যোগ্য শিশুদের জন্য এক হাজার ডলার করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া গত জুলাইয়ে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েল ও তাঁর স্বামী ২০ লাখ শিশুকে স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দানের অঙ্গীকার করেছিলেন।

অন্যদিকে, মাস্কের নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ফাউন্ডেশনটির সম্পদের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, ফাউন্ডেশনের অর্থের বড় অংশ মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে গেছে।

শিশুদের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার বিতরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ বণ্টন, শিশুদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি খাতের মালিকানায় অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক শর্ত ও প্রক্রিয়া প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত পরিধি স্পষ্ট হবে না।

সূত্র: সিএনএন