‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক-এর আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনকারীরা আল্টিমেটাম দেন এবং তা মানা না হলে আগামী ১২ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, এ সিদ্ধান্ত আমানতকারীদের জন্য অমানবিক ও অন্যায্য।
বক্তারা জানান, গত দুই বছর ধরে বহু আমানতকারী এসব ব্যাংক থেকে মূলধন ও মুনাফা তুলতে পারছেন না। ফলে অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফাসহ আমানতের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক করা এবং মেয়াদ শেষে সঞ্চয়ের অর্থ (এফডি, ডিপিএস, এমটিডিআর) চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধের দাবি তোলেন।
মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। গত মঙ্গলবার গভর্নরের কার্যালয়ে পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে অক্ষম এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।
নতুন ব্যাংকটি ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে বিতরণের কথা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর জন্য আমানত বিমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

















