ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দু’জনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / 6

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু। ছবি: সংগৃহীত


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করে। পরে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময় ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য মতে, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই দুই আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে সুযোগ বুঝে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগ করে ফেরার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে ভারতে আটক ফয়সাল ও আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দু’জনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু

প্রকাশঃ ০১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুজনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু। ছবি: সংগৃহীত


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করে। পরে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময় ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য মতে, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ভারত সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই দুই আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে সুযোগ বুঝে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগ করে ফেরার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে ভারতে আটক ফয়সাল ও আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”