ঢাকা ০৮:৩৭ , Sun, ১৮ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

অভিবাসী চিকিৎসকদের ওপর কতটা নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড গবেষকের বইয়ে উঠে এল ইতিহাস

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৩
  • / 11
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এরাম আলম তাঁর বইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অভিবাসী চিকিৎসকদের অবদান ও তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতার ইতিহাস তুলে ধরেছেন। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১৯ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবায় অভিবাসী চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের অবদান ও তাঁদের ওপর দেশটির নির্ভরতার ইতিহাস তুলে ধরেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা ইতিহাসের গবেষক এরাম আলম। তাঁর ২০২৫ সালে প্রকাশিত বই দ্য কেয়ার অব ফরেনার্স: হাউ ইমিগ্র্যান্ট ফিজিশিয়ানস চেঞ্জড ইউএস হেলথকেয়ার-এ দেখানো হয়েছে, কীভাবে কয়েক দশক ধরে অভিবাসী চিকিৎসকেরা যুক্তরাষ্ট্রের শহর ও গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

এরাম আলম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইতিহাস বিভাগে চিকিৎসা ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় বিংশ শতাব্দীতে চিকিৎসাব্যবস্থা ও অভিবাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক। অভিবাসী চিকিৎসকদের শ্রম, দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাব্যবস্থার বিকাশে ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন তিনি। ২০২৫ সালে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বইটিতে সেই ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

 

হার্ভার্ড গেজেটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় দশক ধরে অভিবাসী চিকিৎসকেরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ এলাকার এমন জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন, যেখানে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। আলমের গবেষণায় এই চিকিৎসকদের অবদান, তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং মার্কিন স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাঁদের অবস্থান উঠে এসেছে।

এই নির্ভরতার ঐতিহাসিক পটভূমি খুঁজতে গিয়ে আলম ১৯৬০-এর দশকের দিকে নজর দিয়েছেন। সে সময় স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা সদ্য স্বাধীন এশীয় ও আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী ছিলেন। ১৯৬৫ সালের হার্ট-সেলার অভিবাসন আইন পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ বাড়ায়। একই সময়ে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচি চালু এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রভাবে হাসপাতালগুলোতে বর্ণবৈষম্য দূর করার উদ্যোগ জোরদার হয়। এতে স্বাস্থ্যসেবার আওতা ও রোগীর সংখ্যা বাড়ে, আর চিকিৎসকের চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে আসা চিকিৎসকদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।

আলমের গবেষণায় উঠে এসেছে, এরপর কয়েক দশক ধরে অভিবাসী চিকিৎসকেরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবায় তাঁদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এমন অনেক এলাকায় তাঁরা কাজ করেন, যেখানে চিকিৎসক নিয়োগ ও ধরে রাখা কঠিন। বিভিন্ন গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের মধ্যে অভিবাসীদের অংশ ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই হার সময়কাল, সংজ্ঞা এবং কোন শ্রেণির চিকিৎসককে হিসাবে ধরা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও অভিবাসী চিকিৎসকদের পেশাগত যাত্রা সব সময় সহজ ছিল না। আলমের গবেষণায় দেখা যায়, তাঁদের অনেককে বর্ণ, উচ্চারণ ও বিদেশি পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মতো সাবেক ঔপনিবেশিক অঞ্চল থেকে আসা চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁদের দক্ষতা ও শ্রম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক-সংকট মোকাবিলায় সহায়তা নেওয়া হলেও সেই ব্যবস্থায় কারা বেশি সুবিধা পেয়েছে এবং অভিবাসী চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, বইটিতে সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

আলমের কাজের মূল বক্তব্য, অভিবাসী চিকিৎসকদের অবদানকে কেবল শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের বিষয় হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অভিবাসননীতি, চিকিৎসাশিক্ষা, পেশাগত স্বীকৃতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমান সুযোগের প্রশ্ন। তাঁর গবেষণা ইঙ্গিত করে, সবার জন্য নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনব্যবস্থার সংস্কারকে পরস্পর সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সূত্র: হার্ভার্ড গেজেট, এরাম আলমের ওয়েবসাইট ও জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেসে প্রকাশিত তথ্য।

❤️
👏
🙂
😞

অভিবাসী চিকিৎসকদের ওপর কতটা নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড গবেষকের বইয়ে উঠে এল ইতিহাস

প্রকাশঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৩

ওয়াশিংটন, ১৯ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবায় অভিবাসী চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের অবদান ও তাঁদের ওপর দেশটির নির্ভরতার ইতিহাস তুলে ধরেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা ইতিহাসের গবেষক এরাম আলম। তাঁর ২০২৫ সালে প্রকাশিত বই দ্য কেয়ার অব ফরেনার্স: হাউ ইমিগ্র্যান্ট ফিজিশিয়ানস চেঞ্জড ইউএস হেলথকেয়ার-এ দেখানো হয়েছে, কীভাবে কয়েক দশক ধরে অভিবাসী চিকিৎসকেরা যুক্তরাষ্ট্রের শহর ও গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

এরাম আলম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইতিহাস বিভাগে চিকিৎসা ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় বিংশ শতাব্দীতে চিকিৎসাব্যবস্থা ও অভিবাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক। অভিবাসী চিকিৎসকদের শ্রম, দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাব্যবস্থার বিকাশে ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন তিনি। ২০২৫ সালে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বইটিতে সেই ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

 

হার্ভার্ড গেজেটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় দশক ধরে অভিবাসী চিকিৎসকেরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ এলাকার এমন জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন, যেখানে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। আলমের গবেষণায় এই চিকিৎসকদের অবদান, তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং মার্কিন স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাঁদের অবস্থান উঠে এসেছে।

এই নির্ভরতার ঐতিহাসিক পটভূমি খুঁজতে গিয়ে আলম ১৯৬০-এর দশকের দিকে নজর দিয়েছেন। সে সময় স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা সদ্য স্বাধীন এশীয় ও আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী ছিলেন। ১৯৬৫ সালের হার্ট-সেলার অভিবাসন আইন পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ বাড়ায়। একই সময়ে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচি চালু এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রভাবে হাসপাতালগুলোতে বর্ণবৈষম্য দূর করার উদ্যোগ জোরদার হয়। এতে স্বাস্থ্যসেবার আওতা ও রোগীর সংখ্যা বাড়ে, আর চিকিৎসকের চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে আসা চিকিৎসকদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।

আলমের গবেষণায় উঠে এসেছে, এরপর কয়েক দশক ধরে অভিবাসী চিকিৎসকেরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবায় তাঁদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এমন অনেক এলাকায় তাঁরা কাজ করেন, যেখানে চিকিৎসক নিয়োগ ও ধরে রাখা কঠিন। বিভিন্ন গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের মধ্যে অভিবাসীদের অংশ ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই হার সময়কাল, সংজ্ঞা এবং কোন শ্রেণির চিকিৎসককে হিসাবে ধরা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও অভিবাসী চিকিৎসকদের পেশাগত যাত্রা সব সময় সহজ ছিল না। আলমের গবেষণায় দেখা যায়, তাঁদের অনেককে বর্ণ, উচ্চারণ ও বিদেশি পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মতো সাবেক ঔপনিবেশিক অঞ্চল থেকে আসা চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁদের দক্ষতা ও শ্রম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক-সংকট মোকাবিলায় সহায়তা নেওয়া হলেও সেই ব্যবস্থায় কারা বেশি সুবিধা পেয়েছে এবং অভিবাসী চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, বইটিতে সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

আলমের কাজের মূল বক্তব্য, অভিবাসী চিকিৎসকদের অবদানকে কেবল শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের বিষয় হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অভিবাসননীতি, চিকিৎসাশিক্ষা, পেশাগত স্বীকৃতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমান সুযোগের প্রশ্ন। তাঁর গবেষণা ইঙ্গিত করে, সবার জন্য নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনব্যবস্থার সংস্কারকে পরস্পর সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সূত্র: হার্ভার্ড গেজেট, এরাম আলমের ওয়েবসাইট ও জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেসে প্রকাশিত তথ্য।