ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ নেই, বাংলাদেশ আছে

লেখা: উৎপল শুভ্র
  • প্রকাশঃ ১২:০০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 43

ছবিটি ২০২৪ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ–শ্রীলঙ্কা ম্যাচে তোলা। সেটি ছিল গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। এবারের প্রাথমিক সূচি অনুসারে আজ মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। বিসিবি


মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনায় ভূরাজনীতি আর আর্থিক লাভ-ক্ষতির সমীকরণ। যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই, সেই বিশ্বকাপ কি আদতে পূর্ণতা পাবে? দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষের কাছে এ এক অভূতপূর্ব ও তেতো অভিজ্ঞতা।

ঢাকা: বাংলাদেশ আছে, অথচ বাংলাদেশ নেই—এমন এক অদ্ভুত সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে আজ শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। ২০০৭ থেকে ২০২৪; গত ৯টি আসরে নিয়মিত অংশ নেওয়া লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ছাড়া বিশ্ব আসর কল্পনা করাও ছিল কঠিন। কিন্তু ২০২৬-এর এই বিশ্বকাপ ডায়েরিতে লেখা থাকবে এক ভিন্ন ইতিহাস হিসেবে।

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। সাধারণ হিসেবে ৫-৬ বছরের আগে মানুষের স্মৃতি স্থায়ী হয় না। সেই হিসেবে, ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর এই প্রথম এ দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন একটি বিশ্বকাপ দেখছে যেখানে বাংলাদেশ অনুপস্থিত। দীর্ঘ তিন দশক পর বাংলাদেশকে ছাড়া কোনো ক্রিকেটের বিশ্ব আসর দেখা এই প্রজন্মের জন্য এক ‘অভূতপূর্ব’ কিন্তু বিষাদময় অভিজ্ঞতা।

এবারের বিশ্বকাপ কেবল চার-ছক্কার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সেই ৩ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত যে বিশ্ব ক্রিকেটে এমন ‘ভূমিকম্প’ ঘটাবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। সেই ঘটনার রেশ ধরে ভারত-বাংলাদেশ দ্বন্দ্ব, এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের সংহতি প্রকাশ—সব মিলিয়ে ক্রিকেট এখন জটিল এক ভূরাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি।

আজ কলম্বোয় উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান যখন নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে, তখনো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে খেলতে না চাওয়ার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান যেভাবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে অর্থকরী (ভারত-পাকিস্তান) ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছে, তা ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে সেই বহুল প্রতিক্ষিত ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ‘ওয়াকওভার’ হিসেবে গণ্য হয় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ নামবে, তাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে খেলবে স্কটল্যান্ড। গ্যালারিতে যখন ক্যারিবীয় ঝড় উঠবে, তখন প্রতিটি বাঙালির মনে পড়বে—এখানে আজ থাকার কথা ছিল মোস্তাফিজ-শান্তদের।

বিতর্ক ছাপিয়ে মাঠের খেলায় যদি দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবে কাগজে-কলমে স্বাগতিক ভারতই সবচেয়ে বড় ফেবারিট। তবে তাদের সামনে ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ দুটি:

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক দেশ শিরোপা জিততে পারেনি।

  • কোনো দলই টানা দুবার শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।

আজ মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ভারত সেই ইতিহাস ভাঙার মিশন শুরু করবে।

খেলার একটি আশ্চর্য শক্তি আছে—একবার বল মাঠে গড়ালে সব বিতর্ক ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে কি তা সম্ভব? বিশেষ করে বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তের কাছে, যারা প্রথমবারের মতো নিজেদের দেশকে ছাড়া একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখছে। ক্রিকেট বিশ্বের লাভ-ক্ষতির খতিয়ানে বাংলাদেশ হয়তো আজ মাঠের বাইরে, কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই বাংলাদেশই।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ নেই, বাংলাদেশ আছে

প্রকাশঃ ১২:০০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ছবিটি ২০২৪ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ–শ্রীলঙ্কা ম্যাচে তোলা। সেটি ছিল গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। এবারের প্রাথমিক সূচি অনুসারে আজ মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। বিসিবি


মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনায় ভূরাজনীতি আর আর্থিক লাভ-ক্ষতির সমীকরণ। যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই, সেই বিশ্বকাপ কি আদতে পূর্ণতা পাবে? দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষের কাছে এ এক অভূতপূর্ব ও তেতো অভিজ্ঞতা।

ঢাকা: বাংলাদেশ আছে, অথচ বাংলাদেশ নেই—এমন এক অদ্ভুত সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে আজ শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। ২০০৭ থেকে ২০২৪; গত ৯টি আসরে নিয়মিত অংশ নেওয়া লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ছাড়া বিশ্ব আসর কল্পনা করাও ছিল কঠিন। কিন্তু ২০২৬-এর এই বিশ্বকাপ ডায়েরিতে লেখা থাকবে এক ভিন্ন ইতিহাস হিসেবে।

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। সাধারণ হিসেবে ৫-৬ বছরের আগে মানুষের স্মৃতি স্থায়ী হয় না। সেই হিসেবে, ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর এই প্রথম এ দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন একটি বিশ্বকাপ দেখছে যেখানে বাংলাদেশ অনুপস্থিত। দীর্ঘ তিন দশক পর বাংলাদেশকে ছাড়া কোনো ক্রিকেটের বিশ্ব আসর দেখা এই প্রজন্মের জন্য এক ‘অভূতপূর্ব’ কিন্তু বিষাদময় অভিজ্ঞতা।

এবারের বিশ্বকাপ কেবল চার-ছক্কার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সেই ৩ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত যে বিশ্ব ক্রিকেটে এমন ‘ভূমিকম্প’ ঘটাবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। সেই ঘটনার রেশ ধরে ভারত-বাংলাদেশ দ্বন্দ্ব, এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের সংহতি প্রকাশ—সব মিলিয়ে ক্রিকেট এখন জটিল এক ভূরাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি।

আজ কলম্বোয় উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান যখন নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে, তখনো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে খেলতে না চাওয়ার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান যেভাবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে অর্থকরী (ভারত-পাকিস্তান) ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছে, তা ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে সেই বহুল প্রতিক্ষিত ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ‘ওয়াকওভার’ হিসেবে গণ্য হয় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ নামবে, তাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে খেলবে স্কটল্যান্ড। গ্যালারিতে যখন ক্যারিবীয় ঝড় উঠবে, তখন প্রতিটি বাঙালির মনে পড়বে—এখানে আজ থাকার কথা ছিল মোস্তাফিজ-শান্তদের।

বিতর্ক ছাপিয়ে মাঠের খেলায় যদি দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবে কাগজে-কলমে স্বাগতিক ভারতই সবচেয়ে বড় ফেবারিট। তবে তাদের সামনে ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ দুটি:

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক দেশ শিরোপা জিততে পারেনি।

  • কোনো দলই টানা দুবার শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।

আজ মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ভারত সেই ইতিহাস ভাঙার মিশন শুরু করবে।

খেলার একটি আশ্চর্য শক্তি আছে—একবার বল মাঠে গড়ালে সব বিতর্ক ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে কি তা সম্ভব? বিশেষ করে বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তের কাছে, যারা প্রথমবারের মতো নিজেদের দেশকে ছাড়া একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখছে। ক্রিকেট বিশ্বের লাভ-ক্ষতির খতিয়ানে বাংলাদেশ হয়তো আজ মাঠের বাইরে, কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই বাংলাদেশই।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”