জ্বালানি সংকটে খুলনায় ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬টি বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
- প্রকাশঃ ০৬:২৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 4
খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তীব্র হওয়ায় খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, ফলে শহর ও গ্রামজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলে মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে একাধিক কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য। ফলে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় কেন্দ্র চালু রাখা যাচ্ছে না। “চাহিদা থাকলেও আমাদের হাতে জ্বালানি নেই। জ্বালানি পেলেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে, বিদেশি সহায়তায় নির্মিত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলেও তা পুরো অঞ্চলের চাহিদা মেটাতে পারছে না।
গ্রীষ্ম মৌসুমে খুলনায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিরুজ্জামান জানান, সীমিত সরবরাহের কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের অপচয় রোধে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পক্ষকে সচেতন করা হচ্ছে। দোকান ও শপিংমল সন্ধ্যা ৭টার পর বন্ধ রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)’ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশের এলএনজি আমদানির ৬৮-৭৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও। গ্যাস ও তেলের ঘাটতির কারণে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকছে, আর শিল্প উৎপাদন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ১৮ টাকার বেশি, যেখানে সৌরবিদ্যুতে তা প্রায় অর্ধেক। এ প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।
প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সদস্য গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, “বর্তমান সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। সময়মতো রূপান্তর না ঘটালে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কোটি কোটি বাড়ির ছাদ ব্যবহার করে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ জন্য নীতিগত সহায়তা, ভর্তুকি ও দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
















