ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের ১৯ আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপির জয়, পরাজয়ের কারণ খুঁজছে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০১:৫৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 40

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী


সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। কেবল সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসান জয় পেয়েছেন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়েছেন। পরাজয়ের পেছনে প্রার্থী বাছাইয়ের দুর্বলতা, বারবার প্রার্থী পরিবর্তন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৮টিতে জয় পায়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ তাদের পক্ষে কাজ করেছে।

জামায়াত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দলটি সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে নির্বাচনী মাঠে নামে। শুরুতে অন্তত ছয়টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এবং কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাসও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জামায়াতের কোনো প্রার্থীই বিজয়ী হতে পারেননি।

সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১৯টি আসনের মধ্যে আটটি আসন জামায়াত তাদের জোটের শরিকদের ছেড়ে দেয় এবং তিনটি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়। ফলে দলীয় প্রার্থী ছিল মাত্র আটটি আসনে। স্থানীয় নেতাদের দাবি, শরিক দলকে আসন ছাড় দেওয়ার ফলে শক্তিশালী প্রার্থীরা নির্বাচনের বাইরে চলে যান, যা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, হবিগঞ্জ-১ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহান আলী এবং সিলেট-৩ আসনে লোকমান আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে হঠাৎ জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কারণে তাঁদের সরে দাঁড়াতে হয়। অথচ এই দুটি আসনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। হবিগঞ্জ-৪ আসনে দুই দফা প্রার্থী পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত শরিক দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকদের অভিযোগ, জোটের শরিকদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ও নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এমনকি কয়েকটি শক্তিশালী প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়াও বড় দুর্বলতা ছিল। পাশাপাশি চা-বাগান এলাকায় অবস্থিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে এজেন্ট দিতে না পারায় বিপুলসংখ্যক ভোট তাদের পক্ষে আসেনি।

সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, চা-বাগানে কয়েক লাখ ভোট রয়েছে। সেখানে আমাদের কোনো এজেন্ট ছিল না। বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা নির্বাচনের আগের রাতে আতঙ্ক সৃষ্টি ও টাকা বিলিয়ে প্রভাব বিস্তার করেছে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। আগের সরকারের অপশাসনে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। আমাদের ইশতেহার মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে বলেই এই ফল এসেছে।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতই অনিয়ম করেছে বলে বিএনপি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সিলেট বিভাগে জামায়াত অতীতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে একটি আসন ছাড়া অন্য জেলাগুলোতে দলটির তেমন অর্জন নেই।

নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, তারা পরাজয়ের কারণগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণে কাজ করছেন। তবে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিকভাবে এবারের নির্বাচনে সিলেট বিভাগে বিএনপির বড় ধরনের সাফল্য এবং জামায়াতের ভরাডুবি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

সিলেটের ১৯ আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপির জয়, পরাজয়ের কারণ খুঁজছে জামায়াত

প্রকাশঃ ০১:৫৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী


সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। কেবল সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসান জয় পেয়েছেন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়েছেন। পরাজয়ের পেছনে প্রার্থী বাছাইয়ের দুর্বলতা, বারবার প্রার্থী পরিবর্তন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৮টিতে জয় পায়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ তাদের পক্ষে কাজ করেছে।

জামায়াত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দলটি সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে নির্বাচনী মাঠে নামে। শুরুতে অন্তত ছয়টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এবং কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাসও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জামায়াতের কোনো প্রার্থীই বিজয়ী হতে পারেননি।

সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১৯টি আসনের মধ্যে আটটি আসন জামায়াত তাদের জোটের শরিকদের ছেড়ে দেয় এবং তিনটি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়। ফলে দলীয় প্রার্থী ছিল মাত্র আটটি আসনে। স্থানীয় নেতাদের দাবি, শরিক দলকে আসন ছাড় দেওয়ার ফলে শক্তিশালী প্রার্থীরা নির্বাচনের বাইরে চলে যান, যা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, হবিগঞ্জ-১ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহান আলী এবং সিলেট-৩ আসনে লোকমান আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে হঠাৎ জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কারণে তাঁদের সরে দাঁড়াতে হয়। অথচ এই দুটি আসনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। হবিগঞ্জ-৪ আসনে দুই দফা প্রার্থী পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত শরিক দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকদের অভিযোগ, জোটের শরিকদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ও নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এমনকি কয়েকটি শক্তিশালী প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়াও বড় দুর্বলতা ছিল। পাশাপাশি চা-বাগান এলাকায় অবস্থিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে এজেন্ট দিতে না পারায় বিপুলসংখ্যক ভোট তাদের পক্ষে আসেনি।

সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, চা-বাগানে কয়েক লাখ ভোট রয়েছে। সেখানে আমাদের কোনো এজেন্ট ছিল না। বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা নির্বাচনের আগের রাতে আতঙ্ক সৃষ্টি ও টাকা বিলিয়ে প্রভাব বিস্তার করেছে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। আগের সরকারের অপশাসনে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। আমাদের ইশতেহার মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে বলেই এই ফল এসেছে।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতই অনিয়ম করেছে বলে বিএনপি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সিলেট বিভাগে জামায়াত অতীতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে একটি আসন ছাড়া অন্য জেলাগুলোতে দলটির তেমন অর্জন নেই।

নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, তারা পরাজয়ের কারণগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণে কাজ করছেন। তবে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিকভাবে এবারের নির্বাচনে সিলেট বিভাগে বিএনপির বড় ধরনের সাফল্য এবং জামায়াতের ভরাডুবি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”