১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল, তালিকায় আপনার নাম আছে কি না জানবেন যেভাবে
- প্রকাশঃ ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:৩০
- / 1
ওয়াশিংটন, ১১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাধারীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এখন পর্যন্ত বিদেশি নাগরিকদের ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অপরাধে জড়ানো, অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রতারণা, জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান বা সমর্থনের মতো বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ভিসা বাতিলের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো বা DUI, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।
অর্থাৎ বৈধ মার্কিন ভিসা থাকলেও কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করলে বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করলে সেই ভিসা বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে শুধু অপরাধের বিষয়ই নয়, ভিসা ব্যবস্থায় প্রতারণা, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ও বিবেচনা করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে গুরুতর অপরাধের কয়েকটি ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, মানবপাচার এবং শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপকরণ রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বাতিল হওয়া ভিসার সবাই একই ধরনের অপরাধ বা একই কারণে ভিসা হারিয়েছেন, এমন তথ্য নেই। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্দিষ্ট সংখ্যা বা ‘সবার ভিসা বাতিল হচ্ছে’ ধরনের দাবিকে সরাসরি সত্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নিজের ভিসার ধরন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ঘটনা, অপরাধের অভিযোগ বা অভিবাসনসংক্রান্ত অনিয়ম রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভিসা বাতিলের আওতায় বিরোধপূর্ণ বা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর কিছু ঘটনাও এসেছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, রক্ষণশীল মার্কিন অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড উদ্যাপন করার মতো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিদেশির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের অভিযোগে ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে। এসব ঘটনাকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ‘birth tourism’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এরই মধ্যে ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আগস্টে প্রকাশিত নতুন তথ্যে সেই সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াতেও কঠোরতা বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্ক্রিনিং জোরদারের বিষয়টিও প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের নিজের ভিসা নিয়ে নির্দিষ্ট সমস্যা আছে কি না, সেটি জানতে হলে ব্যক্তিগত ভিসা ও অভিবাসন পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। সাধারণ একটি সংবাদ প্রতিবেদন দেখে কোনো ব্যক্তির ভিসা বাতিল হয়েছে বা হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।



























