অক্টোবর থেকে বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সহায়তা, কঠোর হচ্ছে স্ন্যাপের নিয়ম
- প্রকাশঃ ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৫
- / 2
ওয়াশিংটন, ২ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপের নিয়মে ১ অক্টোবর থেকে একাধিক পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন নিয়মে বর্তমানে সুবিধা পাওয়া পরিবারগুলোর মাসিক সহায়তা সামান্য বাড়লেও আগামী মাসগুলোতে আরও কঠোর যোগ্যতার শর্ত এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনেক পরিবার সহায়তা হারাতে পারে।
সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি বা স্ন্যাপের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক কোটি মানুষ খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পান। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা কর ও ব্যয়সংক্রান্ত আইনের প্রভাবে গত এক বছরে আনুমানিক ৫০ লাখ মানুষ এই সুবিধা হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ লাখের বেশি শিশু রয়েছে বলে সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
১ অক্টোবর থেকে বাড়ছে মাসিক সহায়তা
প্রতি বছর ১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র সরকার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ন্যাপের মাসিক সহায়তার পরিমাণ সমন্বয় করে। আলাস্কা ও হাওয়াই বাদে ৪৮টি অঙ্গরাজ্যে এই পরিবর্তন কার্যকর হয়।
একজনের পরিবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাসিক সহায়তা ২৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৩০৬ ডলার হবে। অর্থাৎ মাসে ৮ ডলার বেশি পাওয়া যাবে।
চার সদস্যের পরিবারের সর্বোচ্চ মাসিক সহায়তা ৯৯৪ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৩ ডলার হবে। এতে মাসে ২৯ ডলার বা বছরে ৩৪৮ ডলার বেশি পাওয়া সম্ভব হবে।
খাদ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার সামঞ্জস্য রাখতে এই বার্ষিক সমন্বয় করা হয়। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মুদি পণ্যের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
রাজ্যের ওপর বাড়ছে প্রশাসনিক ব্যয়ের চাপ
মাসিক সহায়তা কিছুটা বাড়লেও স্ন্যাপ কর্মসূচির প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, স্ন্যাপ পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ের বড় অংশ এখন অঙ্গরাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে।
১ অক্টোবর থেকে অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসনিক ব্যয়ের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ শতাংশ হবে। ফলে রাজ্য সরকারগুলোর ওপর অতিরিক্ত কয়েক কোটি ডলারের ব্যয়ভার পড়বে।
২০২৭ সাল থেকে অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য আরও একটি ব্যয়ের বিধান কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো অঙ্গরাজ্যে স্ন্যাপ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হার ৬ শতাংশের বেশি হলে সেই রাজ্যকে স্ন্যাপের সুবিধার একটি অংশের অর্থও বহন করতে হতে পারে। এতে রাজ্যগুলোর বছরে অতিরিক্ত কয়েকশ কোটি ডলারের ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমেছে
পরিবর্তিত নিয়ম কার্যকরের আগেই কিছু অঙ্গরাজ্যে স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।
সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা ও লুইজিয়ানায় অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে অ্যারিজোনায় স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
তবে এসব পরিবর্তনের পেছনে নতুন যোগ্যতার শর্ত, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং অন্যান্য কারণের পৃথক প্রভাব কতটা, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে।
বাড়ছে কাজের শর্ত
নতুন আইনে স্ন্যাপ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কাজসংক্রান্ত শর্তও কঠোর করা হয়েছে।
নির্ভরশীল সন্তান নেই এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কাজের শর্তের বয়সসীমা ৫৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৪ বছর করা হয়েছে। অর্থাৎ ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের এখন কাজের শর্ত পূরণ করতে হবে।
এ ছাড়া নির্ভরশীল সন্তানের দায়িত্বে থাকা পরিবারের ক্ষেত্রেও নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট বয়সের শিশু থাকা পরিবার কাজের শর্ত থেকে অব্যাহতি পেতে পারত। নতুন নিয়মে ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু থাকা পরিবারগুলো আর সেই অব্যাহতি পাবে না।
ফলে নতুন শর্তের আওতায় আরও বেশি পরিবারকে কাজসংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হতে পারে।
স্ন্যাপের পরিবর্তনগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় বর্তমান সুবিধাভোগীদের জন্য ১ অক্টোবর থেকে মাসিক সহায়তায় সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার শর্ত, কাজের বাধ্যবাধকতা এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।











