চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই গ্রিন কার্ড, বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য ৩ শর্ত
- প্রকাশঃ ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২২
- / 4
ওয়াশিংটন, ২ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য এমন একটি পথ রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই আবেদন করা যায়। জাতীয় স্বার্থে ছাড় নামে পরিচিত এই ব্যবস্থায় আবেদনকারীকে প্রথমে কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। এরপর জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের জন্য তিনটি পৃথক শর্ত পূরণের প্রমাণ দিতে হয়।
জাতীয় স্বার্থে ছাড় কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির আওতাভুক্ত। যোগ্য আবেদনকারী নিজেই আবেদন করতে পারেন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। একই সঙ্গে স্থায়ী শ্রম অনুমোদনের শর্ত থেকেও ছাড় দেওয়া হয়।
তবে চাকরির প্রস্তাব না থাকলেই এই সুবিধা পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে তাঁর প্রস্তাবিত কাজের ক্ষেত্র এবং সেই কাজ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার যথেষ্ট প্রমাণ দিতে হয়।
প্রথমে কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির যোগ্যতা
জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের আবেদন বিবেচনার আগে আবেদনকারীকে কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির মৌলিক যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়।
ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী হতে হবে অথবা বিজ্ঞান, শিল্পকলা কিংবা ব্যবসাসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। এই মৌলিক যোগ্যতা পূরণ না হলে জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের আবেদনও যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয় না।
জাতীয় স্বার্থে ছাড় পেতে ৩ শর্ত
কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির যোগ্যতা প্রমাণের পর আবেদনকারীর জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের আবেদন তিনটি শর্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে:
১. প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২. আবেদনকারী প্রস্তাবিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
৩. চাকরির প্রস্তাব এবং স্থায়ী শ্রম অনুমোদনের শর্ত থেকে ছাড় দেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামগ্রিকভাবে উপকারী হবে।
এই তিনটি শর্তের প্রতিটিই ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নের অংশ। কোনো আবেদনকারী প্রয়োজনীয় শর্তগুলোর প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের আবেদন অনুমোদিত নাও হতে পারে।
চাকরির প্রস্তাব ও নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ প্রয়োজন হয় না
জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, যোগ্য আবেদনকারী নিজেই আবেদন করতে পারেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব নেওয়া বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আবেদন করা বাধ্যতামূলক নয়। একই কারণে স্থায়ী শ্রম অনুমোদনের সাধারণ শর্ত থেকেও ছাড় দেওয়া হয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে শ্রম অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নথিই জমা দিতে হয় না। ইউএসসিআইএসের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর কর্মী-সংক্রান্ত স্থায়ী শ্রম অনুমোদনের নির্দিষ্ট অংশ জমা দিতে হয়, তবে এর জন্য আগে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
এ ক্ষেত্রে আবেদনকারী ফরম ইটিএ-৭৫০বি অথবা এর পরবর্তী ফরম ইটিএ-৯০৮৯-এর প্রযোজ্য অংশ জমা দিতে পারেন।
অতিরিক্ত প্রমাণ চাইতে পারে ইউএসসিআইএস
জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের আবেদন বিবেচনার আগে ইউএসসিআইএস যাচাই করে আবেদনকারী কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির মৌলিক যোগ্যতা পূরণ করেছেন কি না।
এই যোগ্যতা প্রমাণে ঘাটতি থাকলে ইউএসসিআইএস অতিরিক্ত প্রমাণ চাইতে পারে, প্রত্যাখ্যানের অভিপ্রায়ের নোটিশ দিতে পারে অথবা আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
এরপর আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের শর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়।
জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের আইনি ভিত্তি ১৯৯০ সালের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনে রয়েছে। পরবর্তী আইনি সংশোধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও চাকরির প্রস্তাবের শর্ত থেকে ছাড়ের সুযোগ যুক্ত হয়।
বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য উচ্চদক্ষ পেশাজীবীদের জন্য এই ব্যবস্থা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে কেবল উচ্চতর ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীকে তাঁর প্রস্তাবিত কাজের গুরুত্ব এবং সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে কীভাবে অবদান রাখবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।

















