ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় আসছে দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:২৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 27

জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ততই বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ১৭০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে ১২ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি এক দিনেই দেশে এসেছে ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয়। এ নিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ব্যাংকাররা আশা করছেন, চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাসী আয় আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি ডলার, যা আগের মাস নভেম্বরের তুলনায় ৩৩ কোটি ডলার বেশি। নভেম্বরে প্রবাসী আয় ছিল প্রায় ২৮৯ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশে মোট ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় সমান।

গত বছর প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ভালো থাকায় ডলারের বড় কোনো সংকট দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বছরজুড়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বেড়েছে।

একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বাড়তি যে প্রবাসী আয় আসছে, তার একটি বড় অংশই নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য পাঠানো হচ্ছে। যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, সেসব দেশ থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলক বেশি। অনেক প্রার্থীর জন্য বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে দেশে আসছে। নির্বাচন পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি নির্বাচন ও রমজান মিলিয়ে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত ভালো প্রবাসী আয় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল, যা ছিল সর্বোচ্চ। পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৬ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে।

রিজার্ভ কমে যাওয়ার সময় দেশে তীব্র ডলার সংকট দেখা দিয়েছিল এবং ব্যাংক খাতে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সংকট কাটিয়ে ওঠায় বর্তমানে ডলারের দাম কমে ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় আসছে দেশে

প্রকাশঃ ০৯:২৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ততই বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ১৭০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে ১২ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি এক দিনেই দেশে এসেছে ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয়। এ নিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ব্যাংকাররা আশা করছেন, চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাসী আয় আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি ডলার, যা আগের মাস নভেম্বরের তুলনায় ৩৩ কোটি ডলার বেশি। নভেম্বরে প্রবাসী আয় ছিল প্রায় ২৮৯ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশে মোট ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় সমান।

গত বছর প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ভালো থাকায় ডলারের বড় কোনো সংকট দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বছরজুড়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বেড়েছে।

একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বাড়তি যে প্রবাসী আয় আসছে, তার একটি বড় অংশই নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য পাঠানো হচ্ছে। যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, সেসব দেশ থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলক বেশি। অনেক প্রার্থীর জন্য বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে দেশে আসছে। নির্বাচন পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি নির্বাচন ও রমজান মিলিয়ে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত ভালো প্রবাসী আয় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল, যা ছিল সর্বোচ্চ। পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৬ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে।

রিজার্ভ কমে যাওয়ার সময় দেশে তীব্র ডলার সংকট দেখা দিয়েছিল এবং ব্যাংক খাতে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সংকট কাটিয়ে ওঠায় বর্তমানে ডলারের দাম কমে ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”