ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্লাসরুম সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: করিডোরে দাঁড়িয়ে চলছে পাঠদান

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ‎
  • প্রকাশঃ ০৯:৩২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 3

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দীর্ঘদিনের ক্লাসরুম সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের করিডোর, খোলা জায়গা এমনকি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২৫টি বিভাগের ১২৫টিরও বেশি ব্যাচের জন্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র ৩৬টি। ফলে অনেক বিভাগে একটি মাত্র কক্ষ দিয়েই একাধিক ব্যাচের ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার একাধিক বিভাগকে একই কক্ষ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে দেখা যায়।

গত ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সানবিন ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে দাঁড়িয়ে ক্লাস নিতে দেখা যায়। এর আগে একই সংকটের কারণে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানেও ক্লাস নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রায়ই নির্ধারিত সময়ে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় ক্লাস বাতিল হয়ে যায় বা অন্য ভবনে গিয়ে খালি কক্ষ খুঁজতে হয়। এতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে এবং মানসিক চাপও বাড়ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অলিভ খান বলেন, “একটি বিভাগের জন্য একটি মাত্র শ্রেণিকক্ষ থাকায় একাধিক ব্যাচের ক্লাস পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয়কেই অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।”

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, “পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় ক্লাস পরিবর্তন বা বাতিল করতে হয়। এতে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. সানবিন ইসলাম বলেন, “একই সময়ে একাধিক ক্লাস থাকলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। ফলে অনেক সময় নির্ধারিত পাঠদান সম্পন্ন করা যায় না। একটি কোর্সে নির্ধারিত সংখ্যক লেকচার থাকলেও তা পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেক সময় বাধ্য হয়ে করিডোরে দাঁড়িয়ে পাঠদান করতে হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রকট। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং এখন অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শেয়ার করুন

ক্লাসরুম সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: করিডোরে দাঁড়িয়ে চলছে পাঠদান

প্রকাশঃ ০৯:৩২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দীর্ঘদিনের ক্লাসরুম সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের করিডোর, খোলা জায়গা এমনকি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২৫টি বিভাগের ১২৫টিরও বেশি ব্যাচের জন্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র ৩৬টি। ফলে অনেক বিভাগে একটি মাত্র কক্ষ দিয়েই একাধিক ব্যাচের ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার একাধিক বিভাগকে একই কক্ষ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে দেখা যায়।

গত ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সানবিন ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে দাঁড়িয়ে ক্লাস নিতে দেখা যায়। এর আগে একই সংকটের কারণে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানেও ক্লাস নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রায়ই নির্ধারিত সময়ে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় ক্লাস বাতিল হয়ে যায় বা অন্য ভবনে গিয়ে খালি কক্ষ খুঁজতে হয়। এতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে এবং মানসিক চাপও বাড়ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অলিভ খান বলেন, “একটি বিভাগের জন্য একটি মাত্র শ্রেণিকক্ষ থাকায় একাধিক ব্যাচের ক্লাস পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয়কেই অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।”

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, “পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় ক্লাস পরিবর্তন বা বাতিল করতে হয়। এতে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. সানবিন ইসলাম বলেন, “একই সময়ে একাধিক ক্লাস থাকলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। ফলে অনেক সময় নির্ধারিত পাঠদান সম্পন্ন করা যায় না। একটি কোর্সে নির্ধারিত সংখ্যক লেকচার থাকলেও তা পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেক সময় বাধ্য হয়ে করিডোরে দাঁড়িয়ে পাঠদান করতে হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রকট। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং এখন অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।