ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকের মানিব্যাগ নিয়ে অস্বীকৃতি, ফুটেজে বেরিয়ে এলো সত্যতা

মো. জিসান রহমান । মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০২:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 24

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) এক সাংবাদিকের পড়ে যাওয়া মানিব্যাগ কুড়িয়ে নিয়ে তা অস্বীকারের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আখিল আহমেদের বিরুদ্ধে। ঘটনার দুই দিন পর হলের সিসিটিভি ফুটেজে সত্যতা পাওয়ার পর চাপের মুখে মানিব্যাগটি ফেরত দেন তিনি।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’-এর প্রতিনিধি সুজন চন্দ্র দাশ জননেতা আব্দুল মান্নান হলের ডাইনিংয়ে খাবার খেতে গেলে অসাবধানতাবশত তাঁর পকেট থেকে মানিব্যাগটি পড়ে যায়। পরে সেটি খুঁজে না পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদল নেতা আখিল আহমেদসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। এ সময় আখিল আহমেদ মানিব্যাগটি পাওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেন।

পরবর্তীতে ২৭ জানুয়ারি (সোমবার) হল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ডাইনিং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে দেখা যায়, সাংবাদিক সুজন দাশের পড়ে যাওয়া মানিব্যাগটি মো. আখিল আহমেদ নিজেই তুলে নিচ্ছেন। ফুটেজে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাপক চাপের মুখে তিনি মানিব্যাগটি ফেরত দিতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. আখিল আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
আমি মানিব্যাগটি কুড়িয়ে পেয়েছিলাম ঠিকই, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দিইনি। একদিন পর দিয়ে দিয়েছি।


তবে ঘটনার পরপরই কেন তিনি মানিব্যাগ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন—সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, একজন দায়িত্বশীল ছাত্রনেতার এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনৈতিক।

এদিকে রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে জানান,


সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আখিল আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সঙ্গে রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচ কোনোভাবেই দায়বদ্ধ নয়। তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার ১০ম ব্যাচ গ্রহণ করবে না। সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে ব্যাচ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁর দ্বারা সংঘটিত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের জন্য রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচ দায়ী থাকবে না।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

সাংবাদিকের মানিব্যাগ নিয়ে অস্বীকৃতি, ফুটেজে বেরিয়ে এলো সত্যতা

প্রকাশঃ ০২:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) এক সাংবাদিকের পড়ে যাওয়া মানিব্যাগ কুড়িয়ে নিয়ে তা অস্বীকারের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আখিল আহমেদের বিরুদ্ধে। ঘটনার দুই দিন পর হলের সিসিটিভি ফুটেজে সত্যতা পাওয়ার পর চাপের মুখে মানিব্যাগটি ফেরত দেন তিনি।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’-এর প্রতিনিধি সুজন চন্দ্র দাশ জননেতা আব্দুল মান্নান হলের ডাইনিংয়ে খাবার খেতে গেলে অসাবধানতাবশত তাঁর পকেট থেকে মানিব্যাগটি পড়ে যায়। পরে সেটি খুঁজে না পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদল নেতা আখিল আহমেদসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। এ সময় আখিল আহমেদ মানিব্যাগটি পাওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেন।

পরবর্তীতে ২৭ জানুয়ারি (সোমবার) হল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ডাইনিং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে দেখা যায়, সাংবাদিক সুজন দাশের পড়ে যাওয়া মানিব্যাগটি মো. আখিল আহমেদ নিজেই তুলে নিচ্ছেন। ফুটেজে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাপক চাপের মুখে তিনি মানিব্যাগটি ফেরত দিতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. আখিল আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
আমি মানিব্যাগটি কুড়িয়ে পেয়েছিলাম ঠিকই, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দিইনি। একদিন পর দিয়ে দিয়েছি।


তবে ঘটনার পরপরই কেন তিনি মানিব্যাগ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন—সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, একজন দায়িত্বশীল ছাত্রনেতার এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনৈতিক।

এদিকে রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে জানান,


সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আখিল আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সঙ্গে রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচ কোনোভাবেই দায়বদ্ধ নয়। তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার ১০ম ব্যাচ গ্রহণ করবে না। সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে ব্যাচ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁর দ্বারা সংঘটিত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের জন্য রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচ দায়ী থাকবে না।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”