ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় ত্রাণ বাধা ও গণহত্যায় সহায়তা: দুই ইসরায়েলি নারীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

তথ্যসূত্র: দ্য মিডল ইস্ট মনিটর
  • প্রকাশঃ ১০:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 5

ফরাসি-ইসরায়েলি আইনজীবী নিলি কুফার-নাউরি (বাঁয়ে) ও ‘তসাভ ৯’ সংগঠনের মুখপাত্র র‍্যাচেল তিউতু। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া


ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগে দুই ইসরায়েলি নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তরা হলেন নিলি কুফার-নাউরি ও র‍্যাচেল তিউতু। তাঁরা উভয়েই কট্টরপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং ইসরায়েলের পাশাপাশি ফ্রান্সের নাগরিক।

ফরাসি সংবাদপত্র লে মঁদ–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের সরাসরি ভূমিকা থাকার অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশে বাধা দিয়ে তাঁরা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিলি কুফার-নাউরি পেশায় একজন ফরাসি-ইসরায়েলি আইনজীবী। তিনি ‘ইসরায়েল ইজ ফরএভার’ নামের একটি সংগঠনের প্রধান। অপরদিকে র‍্যাচেল তিউতু ‘তসাভ ৯’ নামের একটি সংগঠনের মুখপাত্র। অভিযোগ রয়েছে, গাজায় ত্রাণবাহী যান চলাচল রোধে এ দুই সংগঠনের সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিলি কুফার-নাউরি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি হয়তো আর কখনো ফ্রান্সে যেতে পারবেন না। তিনি বলেন, “ফরাসি কারাগারে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।” পাশাপাশি তিনি জানান, ‘তসাভ ৯’ সংগঠনের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও ফ্রান্সে তদন্ত চলছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আল-হক’সহ কয়েকটি ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন এ দুই নারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এর আগে ‘আল-হক’কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গাজায় চলমান সংকটের মধ্যে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়া গণহত্যার অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। সে প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের এই আইনি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

গাজায় ত্রাণ বাধা ও গণহত্যায় সহায়তা: দুই ইসরায়েলি নারীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশঃ ১০:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরাসি-ইসরায়েলি আইনজীবী নিলি কুফার-নাউরি (বাঁয়ে) ও ‘তসাভ ৯’ সংগঠনের মুখপাত্র র‍্যাচেল তিউতু। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া


ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগে দুই ইসরায়েলি নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তরা হলেন নিলি কুফার-নাউরি ও র‍্যাচেল তিউতু। তাঁরা উভয়েই কট্টরপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং ইসরায়েলের পাশাপাশি ফ্রান্সের নাগরিক।

ফরাসি সংবাদপত্র লে মঁদ–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের সরাসরি ভূমিকা থাকার অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশে বাধা দিয়ে তাঁরা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিলি কুফার-নাউরি পেশায় একজন ফরাসি-ইসরায়েলি আইনজীবী। তিনি ‘ইসরায়েল ইজ ফরএভার’ নামের একটি সংগঠনের প্রধান। অপরদিকে র‍্যাচেল তিউতু ‘তসাভ ৯’ নামের একটি সংগঠনের মুখপাত্র। অভিযোগ রয়েছে, গাজায় ত্রাণবাহী যান চলাচল রোধে এ দুই সংগঠনের সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিলি কুফার-নাউরি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি হয়তো আর কখনো ফ্রান্সে যেতে পারবেন না। তিনি বলেন, “ফরাসি কারাগারে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।” পাশাপাশি তিনি জানান, ‘তসাভ ৯’ সংগঠনের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও ফ্রান্সে তদন্ত চলছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আল-হক’সহ কয়েকটি ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন এ দুই নারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এর আগে ‘আল-হক’কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গাজায় চলমান সংকটের মধ্যে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়া গণহত্যার অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। সে প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের এই আইনি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।