অভিবাসন নীতিতে ইউরোপে ব্যতিক্রমী পথে স্পেন, বৈধতা পাচ্ছে ৫ লাখ মানুষ
- প্রকাশঃ ০৩:৩০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 12
ইউরোপের অন্যতম প্রধান দেশ স্পেন দেশটিতে বসবাসরত প্রায় পাঁচ লাখ নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্পেন সরকার জানায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে এই অভিবাসীবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি শক্তিশালী দেশ যখন অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি গ্রহণ করছে, তখন স্পেন সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
স্পেনের সামাজিক নিরাপত্তা ও অভিবাসনবিষয়কমন্ত্রী এলমা সাইজ এই ঘোষণাকে দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল সেই বিদেশি নাগরিকরাই বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার রেকর্ড নেই।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব অভিবাসী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের আগে অন্তত পাঁচ মাস ধরে স্পেনে অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তাঁরাই এ সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের এক বছরের জন্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় এ মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। আগামী এপ্রিল থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং তা জুন মাস পর্যন্ত চলবে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে কলম্বিয়া, পেরু ও হন্ডুরাসসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নথিপত্রহীন মানুষের সংখ্যা ২০১৭ সালে ছিল প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৪০৯ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৩৭ হাজার ৯৩৮ জনে।
সোশ্যালিস্ট নেতৃত্বাধীন জোট সরকার মনে করছে, দেশের অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখা এবং জনতাত্ত্বিক ভারসাম্য রক্ষায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। মন্ত্রী এলমা সাইজ বলেন, স্পেনের অভিবাসন মডেল মানবাধিকার, সমন্বয় ও সহাবস্থানের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
অর্থনৈতিকভাবে বর্তমানে স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর বেকারত্বের হার ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
সরকারের ধারণা, অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করলে শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ হবে এবং কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে তাদের অবদান নিশ্চিত করা যাবে। বিশ্বজুড়ে অভিবাসন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

























