ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিথ্যা চাকরির অফার দিয়ে বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দিচ্ছে রাশিয়া—এপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৪:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 14

চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করতে বাধ্য করছে রাশিয়া—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ায় বেসামরিক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের সামরিক চুক্তিতে সই করিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের একজন মাকসুদুর রহমান জানান, এক শ্রম দালাল তাঁকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠান। কিন্তু মস্কো পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।

এপি তিনজন বাংলাদেশির সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যাঁরা রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন। তাঁরা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের রুশ ভাষায় লেখা কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়, যা পরে সামরিক চুক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়। এরপর তাঁদের সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো হয়, যেখানে ড্রোন যুদ্ধকৌশল, আহত সেনা সরিয়ে নেওয়া ও ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

মাকসুদুর রহমান বলেন, এ কাজে আপত্তি জানালে এক রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে তাঁকে বলেন, তোমার এজেন্ট তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাকে কিনেছি।

ভুক্তভোগীরা জানান, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সামনের সারিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। রুশ বাহিনীর আগে এগিয়ে যাওয়া, রসদ বহন, আহত সেনা উদ্ধার এবং নিহতদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হতো তাঁদের দিয়ে।

তাঁরা আরও জানান, কাজ করতে অস্বীকার করলে ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। মাকসুদুর রহমান বলেন, সাত মাস যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার পর তিনি পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

এপি যেসব নথি পর্যালোচনা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশি প্রতিবেদন এবং যুদ্ধের সময় পাওয়া আঘাতের ছবি। এসব নথি তাঁদের যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ দেয়।

ঠিক কতজন বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা জানা যায়নি। তবে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে শত শত বাংলাদেশিকে তাঁরা দেখেছেন।

এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা এপির প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একই ধরনের কৌশলে রাশিয়া ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও টার্গেট করেছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে অভিবাসী শ্রমিকদের জোরপূর্বক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

মিথ্যা চাকরির অফার দিয়ে বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দিচ্ছে রাশিয়া—এপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

প্রকাশঃ ০৪:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করতে বাধ্য করছে রাশিয়া—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ায় বেসামরিক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের সামরিক চুক্তিতে সই করিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের একজন মাকসুদুর রহমান জানান, এক শ্রম দালাল তাঁকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠান। কিন্তু মস্কো পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।

এপি তিনজন বাংলাদেশির সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যাঁরা রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন। তাঁরা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের রুশ ভাষায় লেখা কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়, যা পরে সামরিক চুক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়। এরপর তাঁদের সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো হয়, যেখানে ড্রোন যুদ্ধকৌশল, আহত সেনা সরিয়ে নেওয়া ও ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

মাকসুদুর রহমান বলেন, এ কাজে আপত্তি জানালে এক রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে তাঁকে বলেন, তোমার এজেন্ট তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাকে কিনেছি।

ভুক্তভোগীরা জানান, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সামনের সারিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। রুশ বাহিনীর আগে এগিয়ে যাওয়া, রসদ বহন, আহত সেনা উদ্ধার এবং নিহতদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হতো তাঁদের দিয়ে।

তাঁরা আরও জানান, কাজ করতে অস্বীকার করলে ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। মাকসুদুর রহমান বলেন, সাত মাস যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার পর তিনি পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

এপি যেসব নথি পর্যালোচনা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশি প্রতিবেদন এবং যুদ্ধের সময় পাওয়া আঘাতের ছবি। এসব নথি তাঁদের যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ দেয়।

ঠিক কতজন বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা জানা যায়নি। তবে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে শত শত বাংলাদেশিকে তাঁরা দেখেছেন।

এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা এপির প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একই ধরনের কৌশলে রাশিয়া ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও টার্গেট করেছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে অভিবাসী শ্রমিকদের জোরপূর্বক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”