চিরবিদায় নিলেন ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি মোস্তফা কামাল
- প্রকাশঃ ০২:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 11
আজকের সকালটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ছিল শোকাবহ। প্রয়াত হয়েছেন ক্রীড়াব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল। রোববার ভোরে রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও কিডনির সমস্যার সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করার পর আজ শেষ হলো তার জীবন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
মোস্তফা কামাল কেবল একজন ক্রীড়া সংগঠকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন নামকরা ক্রীড়াবিদ। নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এই ক্রীড়াব্যক্তিত্ব ষাটের দশকে ঢাকার খেলাধুলার মঞ্চে দাপটের সঙ্গে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তার প্রতিভা।
১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত তিনি ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবলে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবে খেলেছেন। ১৯৬৬ সালে নাম লেখান ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে এবং চার বছরের মধ্যে দুবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ১৯৬৬ সালের আগা খাঁন গোল্ডকাপে মোহামেডানের জার্সিতে মাঠে নামার সময় তাঁর পাশে ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শংকর হাজরা, তোরাব আলী ও বশীর–জহিরুল হকরা।
ফুটবলের পাশাপাশি ভলিবল কোর্টেও মোস্তফা কামাল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ভলিবল দলের সদস্য ছিলেন তিনি এবং ১৯৬৮ সালে অধিনায়কত্বও পালন করেছেন।
মাঠের বাইরে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ও সহজ সরল স্বভাবের মানুষ। সদালাপী ও মানবিক আচরণের কারণে ছোট-বড় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত আপনজন। বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মকে বারবার অনুপ্রাণিত করেছেন।
আজ বাদ জোহর শান্তিনগর ইস্টার্ন প্লাস শপিং মলে মোস্তফা কামালের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আনা হবে। চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।
মোস্তফা কামালের প্রয়াণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া। শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা মোহামেডান ক্লাব, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন।



























