যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ২৫০ ডলারের অনুদান, জিপ কোড দিয়ে যোগ্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
- প্রকাশঃ ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৩
- / 29
ওয়াশিংটন, ১৬ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য চালু হওয়া বিশেষ বিনিয়োগ কর্মসূচি ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’-এ ২৫০ ডলার করে অনুদান দিচ্ছেন ডেল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেল ও তাঁর স্ত্রী সুসান ডেল। তবে এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশু পাবে না। শিশুর জন্মতারিখ এবং পরিবারের বসবাসের এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের ভিত্তিতে অনুদানের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিভাবকেরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিজেদের এলাকার জিপ কোড দিয়ে যাচাই করতে পারবেন, তাঁদের সন্তান এই অনুদানের আওতায় পড়ছে কি না। তবে কোনো এলাকার জিপ কোড যোগ্য হলেই নির্দিষ্ট শিশুর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট আমেরিয়ার পরিচালিত এই কর্মসূচিতে মাইকেল ও সুসান ডেল মোট ৬২৫ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে যোগ্য অ্যাকাউন্টগুলোতে ২৫০ ডলার জমা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কারা পাবেন ২৫০ ডলারের অনুদান?
এই অনুদানের জন্য শিশুর জন্ম হতে হবে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। পাশাপাশি, শিশুর বসবাসের এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয় হতে হবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ ডলার।
আয়ের এই সীমা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে পরিবারের নিজস্ব আয় বিবেচনা করা হয় না। বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। ফলে কোনো পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার বেশি বা কম হলেই অনুদান পাওয়ার যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে বসবাসকারী নির্ধারিত বয়সসীমার যোগ্য শিশুরাও এলাকার আয়সীমা নির্বিশেষে এই অনুদান পেতে পারে।
ইনভেস্ট আমেরিয়া জানিয়েছে, অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে তুলনামূলক কম মধ্যম পারিবারিক আয়ের এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত ২ কোটি ৫০ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য এলাকার পরিধি বাড়ানো হয়।
জিপ কোড দিয়ে যোগ্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
সন্তান এই অনুদানের আওতায় পড়ছে কি না, তা জানতে ইনভেস্ট আমেরিয়ার নির্ধারিত ওয়েবপেজে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://investamerica.org/check-dell-250-eligibility/
ওই পেজে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট এলাকার জিপ কোড লিখে যাচাই করা যাবে, এলাকাটি অনুদানের আওতাভুক্ত কি না। তবে এলাকার যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সন্তানের বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টের তথ্যও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এতে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সরকারের ১ হাজার ডলারের অনুদান আলাদা
ডেল দম্পতির দেওয়া ২৫০ ডলারের অনুদান যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেওয়া ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক অর্থ থেকে আলাদা। সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে সাধারণত শিশুর জন্ম হতে হবে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। শিশুকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে এবং তার বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকতে হবে। পাশাপাশি, অ্যাকাউন্ট খোলা ও অর্থ পাওয়ার জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি ১ হাজার ডলারের অর্থও সব শিশুর অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয় না। দুই কর্মসূচির জন্মতারিখ ও যোগ্যতার শর্ত আলাদা। তাই একটি কর্মসূচির আওতায় যোগ্য হলেই অন্যটির অনুদান পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
অ্যাকাউন্টে আরও অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ
ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন ও অনুমোদিত অন্য ব্যক্তিরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থ জমা দিতে পারেন। ইনভেস্ট আমেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা বর্তমানে ৫ হাজার ডলার।
অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ তহবিলে রাখা হয়। ফলে বিনিয়োগের মূল্য সময়ের সঙ্গে বাড়তে বা কমতে পারে। ভবিষ্যতে অ্যাকাউন্টে কত অর্থ জমবে, তা নির্ভর করবে জমার পরিমাণ, বিনিয়োগের ফলাফল, খরচ ও সময়ের ওপর। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
অ্যাকাউন্টধারী ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষা, বাড়ি কেনা বা ব্যবসা শুরু করার মতো কাজে অর্থ ব্যবহারের সুযোগের কথা কর্মসূচির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কর ও অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিভাবক বা নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টটির তত্ত্বাবধান করেন।
অভিভাবকদের তাই অনুদানের যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগনীতি, অর্থ ব্যবহারের নিয়ম ও সম্ভাব্য কর সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। প্রতারণা এড়াতে কেবল অনুমোদিত ওয়েবসাইট ও আবেদনপদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। অচেনা বার্তা বা অর্থের বিনিময়ে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব থেকেও সতর্ক থাকতে হবে।
























