জেন-জি গণ–অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের নির্বাচন: নতুন স্বপ্নের পথে পুরোনো শক্তির দাপট
- প্রকাশঃ ০৩:৪৯:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 64
শেখ হাসিনা পতনের পাঁচ মাস পর আন্দোলনে নিহত এক হাজারের বেশি মানুষকে স্মরণ করতে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ। ছবি: রয়টার্স
এক বছরের আগে বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসককে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, আগামী বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লাখ লাখ তরুণ স্বপ্ন দেখেছিলেন, এই গণ–অভ্যুত্থান দেশকে নতুন রাজনৈতিক পথে এগিয়ে নেবে।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে, দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করলে এবং বিক্ষোভকারীরা তার সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্তম্ভিত হয়। এই ঘটনা নেপাল, মাদাগাস্কারসহ অন্যান্য দেশের তরুণদের আন্দোলনের জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালে জালিয়াতি, নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট ও ভিন্নমত দমন করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্র মির্জা শাকিল সিএনএনকে বলেন, এই বিপ্লব দেখিয়েছে, জেন-জি আসলে কী অর্জন করতে পারে।
তবে হাসিনা পরবর্তী যুগে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বীরা সেই আন্দোলনের তরুণদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন ৬০ বছর বয়সী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবং একজন ৬৭ বছর বয়সী ইসলামপন্থী নেতা নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।
সাদমান মুজতবা রাফিদ রয়টার্সকে বলেন, আমরা এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম যেখানে সকলের সমান সুযোগ থাকবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে।
ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হাসিনার পতন শুরু হয়। সরকারের নৃশংস দমন-নিপীড়ন আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে। ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীরা হাসিনার বাসভবনে ঢুকে লুটপাট চালায়, এবং তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন।
নভেম্বরে ঢাকার আদালত তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস অনুসারে, ওই সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে তাকে প্রত্যর্পণের দাবি করছে, যদিও হাসিনা নির্দোষ দাবি করছেন। তার দল, আওয়ামী লীগ, নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি বিএনপির জন্য সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বিএনপির নেতা তারেক রহমান—খালেদা জিয়ার ছেলে—১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশে ফিরে নির্বাচনে এগিয়ে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও আবার শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। নতুন রাজনৈতিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত হলেও জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে জোট দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাওমি হোসেন বলেন, এটি মূলত নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়েছে। সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশে সংসদ সদস্য পদ এক ধরনের সুরক্ষা দেয়।
সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে।
শিক্ষার্থী নাজিফা জান্নাত বলেন, এনসিপি সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি। জামায়াতের সঙ্গে জোট আমাদের জন্য অপমানজনক।
তবুও, অনেকেই আগামী নির্বাচনে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট আশা করছেন। শাকিল বলেন, এই নির্বাচন নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারে।
















