ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ হাদি হত্যা: ফয়সালকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১০:১৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / 32

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তাকারী হিসেবে যাঁর নাম এসেছে, সেই ফিলিপ সাংমা ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের কাছ থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে কলকাতা থেকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ফিলিপ সাংমাকে আটকের বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছিলেন। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনিও অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।

গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে এসটিএফ জানিয়েছে।

এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ছয় দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার দিনই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তাঁদের সীমান্ত পার হতে সহায়তা করার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্তে জানা যায়, অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় দালালদের সহায়তায় তাঁদের সীমান্ত পার করা হয়। এ চক্রের একজন ছিলেন ফিলিপ সাংমা, যার বাড়ি হালুয়াঘাট সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামে।

এর আগে পুলিশের অভিযানে ফিলিপের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার হন। তাঁদের কাছ থেকে জানা যায়, টেলিভিশনে খবর দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন যে ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় বড় ধরনের একটি অপরাধ করে পালিয়ে এসেছে। পরে ফিলিপ আত্মগোপনে চলে যান।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফিলিপ সাংমাকে নিয়ে এ পর্যন্ত তিনজন ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় দেশে এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সবাই অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরীসহ দুজন এখনো পলাতক।

এ ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি দিলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

শহীদ হাদি হত্যা: ফয়সালকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার

প্রকাশঃ ১০:১৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তাকারী হিসেবে যাঁর নাম এসেছে, সেই ফিলিপ সাংমা ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের কাছ থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে কলকাতা থেকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ফিলিপ সাংমাকে আটকের বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছিলেন। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনিও অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।

গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে এসটিএফ জানিয়েছে।

এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ছয় দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার দিনই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তাঁদের সীমান্ত পার হতে সহায়তা করার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্তে জানা যায়, অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় দালালদের সহায়তায় তাঁদের সীমান্ত পার করা হয়। এ চক্রের একজন ছিলেন ফিলিপ সাংমা, যার বাড়ি হালুয়াঘাট সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামে।

এর আগে পুলিশের অভিযানে ফিলিপের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার হন। তাঁদের কাছ থেকে জানা যায়, টেলিভিশনে খবর দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন যে ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় বড় ধরনের একটি অপরাধ করে পালিয়ে এসেছে। পরে ফিলিপ আত্মগোপনে চলে যান।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফিলিপ সাংমাকে নিয়ে এ পর্যন্ত তিনজন ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় দেশে এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সবাই অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরীসহ দুজন এখনো পলাতক।

এ ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি দিলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”