ফেসবুক পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদ, বিদেশ পাঠানোর নামে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ
- প্রকাশঃ ০৬:৪১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 59
বিয়ের আশ্বাস ও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংঘবদ্ধ এই চক্র বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার পরিচয় হয় সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে, যিনি নিজেকে ইংল্যান্ডপ্রবাসী বলে পরিচয় দেন। পরিচয়ের একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
চার মাস আগে সোহেল রানা দেশে আসছেন জানিয়ে তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেতে বলেন। তার কথামতো তিনি বিমানবন্দরে গিয়ে সোহেল রানাকে রিসিভ করেন। এতে তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যে সোহেল রানা সত্যিই বিদেশে অবস্থান করেন।
এরপর সোহেল রানা তাকে জানান, তিনি কানাডায় লোক পাঠাতে পারেন। শর্ত হিসেবে বলেন, কেউ বিদেশে যেতে চাইলে সেই টাকা দিয়ে তিনি ভুক্তভোগীকে বিয়ে করে বিদেশে নিয়ে যাবেন। এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে ওই তরুণী জনি নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন এবং তা সোহেল রানার ভাই পরিচয় দেওয়া আলামিনের হাতে তুলে দেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরে জনির নামে একটি ভিসাও দেওয়া হয়। ফিরোজ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জনিকে শ্রীলঙ্কাগামী বিমান টিকিট দেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা হয়ে তাকে কানাডায় পাঠানোর কথা ছিল।
তবে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে জনিকে আটক করা হয়। সেখানে সোহেল রানা বা তার পক্ষ থেকে কাউকে তাকে গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। প্রায় দুই দিন নানা ভোগান্তির পর জনি বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
এ ঘটনার পর থেকে সোহেল রানা ও তার ভাই আলামিনের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী তরুণী। তিনি আরও জানান, সোহেল রানা তাকে জানিয়েছিলেন যে তার বাড়ি খুলনার বয়রা এলাকায়। তবে ঘটনার পর সেখানে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।




























