ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্র অপহরণ ও হত্যা: ছাত্রদল কর্মীসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১১:২৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 16

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিত ছবি: সংগৃহীত   


ফেনীতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে (১০) অপহরণ ও হত্যা মামলায় ছাত্রদল কর্মীসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে আটক তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আশরাফ হোসেন তুষার (২২), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২২) ও ওমর ফারুক রিফাত (২২)। আশরাফ হোসেন তুষার ফেনী পৌর ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সহপ্রচার সম্পাদক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জিয়া স্মৃতি সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং শেষে স্থানীয় বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে বাসায় ফেরার পথে নাশিতকে অপহরণ করেন আসামিরা। তাকে শহরতলির দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে গিয়ে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করা হয়। পরে নাশিতের ছবি তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ যেন ভেসে না ওঠে, সে জন্য স্কুল ব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ৯ ডিসেম্বর নিহতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ফেনী মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে একটি নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে তুষারের নাম জানালে পুলিশ তাকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় শুনে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ বলেন, আমার সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।

ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি মো. শাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, এ মামলার রায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। এটি বিচার ব্যবস্থায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

স্কুলছাত্র অপহরণ ও হত্যা: ছাত্রদল কর্মীসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশঃ ১১:২৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিত ছবি: সংগৃহীত   


ফেনীতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে (১০) অপহরণ ও হত্যা মামলায় ছাত্রদল কর্মীসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে আটক তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আশরাফ হোসেন তুষার (২২), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২২) ও ওমর ফারুক রিফাত (২২)। আশরাফ হোসেন তুষার ফেনী পৌর ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সহপ্রচার সম্পাদক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জিয়া স্মৃতি সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং শেষে স্থানীয় বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে বাসায় ফেরার পথে নাশিতকে অপহরণ করেন আসামিরা। তাকে শহরতলির দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে গিয়ে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করা হয়। পরে নাশিতের ছবি তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ যেন ভেসে না ওঠে, সে জন্য স্কুল ব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ৯ ডিসেম্বর নিহতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ফেনী মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে একটি নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে তুষারের নাম জানালে পুলিশ তাকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় শুনে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ বলেন, আমার সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।

ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি মো. শাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, এ মামলার রায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। এটি বিচার ব্যবস্থায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”