সাভারে ছয় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত, গ্রেপ্তার মশিউর ছয় হত্যার দায় স্বীকার
- প্রকাশঃ ০৭:৪২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 18
ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশ এলাকায় গত ছয় মাসে সংঘটিত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ছয়টি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার সকালে তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।
তিনি বলেন, পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও এর আশপাশের এলাকা থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ শুরু থেকেই নিবিড় তদন্ত চালিয়ে আসছিল। পৌরসভার সহায়তায় ভবনটি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সম্প্রতি সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
রোববার কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে পোড়া অবস্থায় দুজনের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে মশিউরের সন্দেহজনক উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মশিউর গতকালের দুইজনসহ মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম। রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত পাঁচ মাসে পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাভার মডেল মসজিদসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতিটি ঘটনায় আইনানুগভাবে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, সর্বপ্রথম গত বছরের ২৯ আগস্ট ভবনটির দ্বিতীয় তলা থেকে হাত বাঁধা ও অর্ধগলিত অবস্থায় আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ১১ অক্টোবর একই ভবনের বাথরুম থেকে গলাকাটা অবস্থায় আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারীর লাশ পাওয়া যায়। ১৯ ডিসেম্বর আবারও সেখানে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ রোববার আনুমানিক ১৩ ও ২৫ বছর বয়সী দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।




























