ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন উপলক্ষে বাড়িমুখী মানুষের ঢল: ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১১:২৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 46

নির্বাচন উপলক্ষে বাড়িমুখী মানুষের ভিড়। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা মোড়ে। ছবি: সংগৃহীত  


জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ নিজ নিজ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন। একসঙ্গে হাজারো মানুষ বাড়ির পথে ছুটে চলায় গাজীপুরের ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এতে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখী যাত্রীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে।

ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানা থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ছুটি পেয়েছেন। সকালে রওনা হলেও চন্দ্রা এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। কখন বাড়ি পৌঁছাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে বাসে রাজশাহীগামী গৃহকর্মী হাসিনা বেগম জানান, ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাচ্ছেন। তবে যানজটে ছোট শিশু নিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, সাধারণত দীর্ঘ ছুটির সময় মহাসড়কে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তবে এবার অধিকাংশ পুলিশ সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় মহাসড়কে জনবল কম রয়েছে। স্বল্পসংখ্যক পুলিশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

এদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর প্রতিনিধি জানান, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় থেকেও বাস পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ট্রাকে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এ সুযোগে বাসচালক ও সুপারভাইজাররা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চল থেকে সর্ষে ও ধান চাষের মৌসুমে বহু শ্রমিক মির্জাপুরে কাজ করতে আসেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে তাঁরা গতকাল সোমবার বিকেল থেকেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। পাশাপাশি মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কারখানায় কর্মরত উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকরাও বাড়ি ফিরছেন। ফলে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

সকালে দেওহাটা ও মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় বেশি, যাদের বড় অংশই শ্রমিক। দিনাজপুরগামী যাত্রী সুজন দে জানান, সকাল ছয়টা থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করলেও পৌনে আটটা পর্যন্ত বাস পাননি। দু–একটি বাস এলেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।

মহাসড়কের যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মির্জাপুর পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন, ঢাকা থেকে মির্জাপুর আসতে তাঁর ১১ ঘণ্টা সময় লেগেছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নেই এবং চার গুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়িমুখী মানুষের এই চাপ ও যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

নির্বাচন উপলক্ষে বাড়িমুখী মানুষের ঢল: ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট

প্রকাশঃ ১১:২৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন উপলক্ষে বাড়িমুখী মানুষের ভিড়। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা মোড়ে। ছবি: সংগৃহীত  


জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ নিজ নিজ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন। একসঙ্গে হাজারো মানুষ বাড়ির পথে ছুটে চলায় গাজীপুরের ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এতে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখী যাত্রীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে।

ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানা থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ছুটি পেয়েছেন। সকালে রওনা হলেও চন্দ্রা এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। কখন বাড়ি পৌঁছাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে বাসে রাজশাহীগামী গৃহকর্মী হাসিনা বেগম জানান, ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাচ্ছেন। তবে যানজটে ছোট শিশু নিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, সাধারণত দীর্ঘ ছুটির সময় মহাসড়কে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তবে এবার অধিকাংশ পুলিশ সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় মহাসড়কে জনবল কম রয়েছে। স্বল্পসংখ্যক পুলিশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।

এদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর প্রতিনিধি জানান, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় থেকেও বাস পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ট্রাকে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এ সুযোগে বাসচালক ও সুপারভাইজাররা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চল থেকে সর্ষে ও ধান চাষের মৌসুমে বহু শ্রমিক মির্জাপুরে কাজ করতে আসেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে তাঁরা গতকাল সোমবার বিকেল থেকেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। পাশাপাশি মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কারখানায় কর্মরত উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকরাও বাড়ি ফিরছেন। ফলে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

সকালে দেওহাটা ও মির্জাপুর বাইপাস বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ভিড় বেশি, যাদের বড় অংশই শ্রমিক। দিনাজপুরগামী যাত্রী সুজন দে জানান, সকাল ছয়টা থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করলেও পৌনে আটটা পর্যন্ত বাস পাননি। দু–একটি বাস এলেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।

মহাসড়কের যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মির্জাপুর পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন, ঢাকা থেকে মির্জাপুর আসতে তাঁর ১১ ঘণ্টা সময় লেগেছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নেই এবং চার গুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়িমুখী মানুষের এই চাপ ও যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”