ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিলো যুক্তরাষ্ট্র, পারমাণবিক আলোচনার মাঝেই উত্তেজনা বৃদ্ধি
- প্রকাশঃ ০৯:১৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 27
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেন। সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ শান্তিদূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন। ছবি: এএফপি
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার সকালে ওমান সম্মেলনে মার্কিন বিশেষ শান্তিদূত স্টিভ উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটি গত গ্রীষ্মের ১২ দিনের সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি প্রথম মুখোমুখি আলোচনা।
মার্কিন ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, যে কোনো হুমকির জন্য তারা প্রস্তুত থাকবেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের নিকটে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ট্রাম্প ‘আর্মাডা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি বা হঠকারিতার বিরুদ্ধে ইরান নিজেকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তেহরানের প্রধান মিত্র চীন এই অবস্থান সমর্থন করেছে এবং ওয়াশিংটনের ‘একতরফা পদক্ষেপ’ বিরোধিতা করেছে।
ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদল ইরানের শূন্য পারমাণবিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার বিষয় খতিয়ে দেখবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সকল বিকল্প খোলা আছে। ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি হচ্ছে, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে। তবে আলোচনায় তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থন বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।
ইরান সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পাল্টা হুমকি দিয়েছে, তবে আলোচনার আগে কূটনীতি ব্যবহারের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। আঞ্চলিক দেশগুলোকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পারমাণবিক ইস্যু রাখার পাশাপাশি চুক্তির কাঠামো তৈরির জন্য অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় আনার জন্য রাজি হয়েছে।
এই বৈঠক ইরানের ইসলামি নেতাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলনের মাত্র এক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পশ্চিমাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সহিংসভাবে বিক্ষোভ দমনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্য, তারা আলোচনা করছে। তারা চায় না, আমরা তাদের ওপর হামলা করি। আমাদের একটি বড় নৌবহর সেখানে যাচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, সব বিকল্পই খোলা আছে। সামরিক পথ ছাড়াই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা হবে, তবে প্রয়োজন হলে শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
ইরানের দাবি, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে এবং তাদের পারমাণবিক প্রকল্প কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে।

















