মানবতার দুই মুখ: সহানুভূতির মৃত্যু মেনে নিতে অস্বীকার
- প্রকাশঃ ১১:৩৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 96
শাহ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন | ছবি: সংগৃহীত
মানুষ এক আশ্চর্য সত্তা- একই সঙ্গে মহিমান্বিত ও বিভীষণ। এই বৈপরীত্যের মধ্যেই গড়ে উঠেছে সভ্যতার ইতিহাস। সেই মানবিক জটিলতাকেই গভীর ও দার্শনিক ভাষায় তুলে ধরেছেন লেখক শাহ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন, তাঁর সাম্প্রতিক প্রবন্ধ ‘মহিমান্বিত এবং বিভীষণ’-এ।
“আমরা সিম্ফনি রচনা করতে পারি, আবার নৃশংসতারও স্থপতি হতে পারি। শান্তির গির্জা নির্মাণ করি, অথচ নীরবতার অভ্যন্তরে যুদ্ধকে পোষণ করি।” এই বাক্যগুলো যেন আধুনিক মানবসভ্যতার আত্মবিরোধের নির্মম প্রতিচ্ছবি।
প্রতিটি যুগেই মানবজাতি তার নিষ্ঠুরতাকে নতুন পোশাকে আড়াল করে। লুণ্ঠনকে বলা হয় ‘নিরাপত্তা’, শোষণকে বলা হয় ‘উন্নয়ন’, আর উদাসীনতাকে ‘ব্যক্তিস্বাধীনতা’। ব্যথা স্ক্রিনে স্ক্রল করে পার হয়ে যায়, বিবেক আউটসোর্স হয়, আর সহানুভূতি নির্বাসিত হয়ে পড়ে সুবিধা ও বিভ্রান্তির ছায়ায়।
আধুনিক পরিবার এখন নিঃসঙ্গতার নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। আমরা এক ছাদের নিচে থাকি, কিন্তু এক জীবনে নই। সন্তানদের শেখানো হয় সাফল্যের পাঠ, কিন্তু মানবতার নয়; টিকে থাকার কৌশল, কিন্তু সহানুভূতির নয়। এই বাস্তবতা, হোসাইনের ভাষায়, চকচকে দেয়ালের ভেতরে মানুষ মরছে—ক্ষুধায় নয়, অবহেলায়।
তবুও তিনি কেবল নৈরাশ্য ছড়াননি। বরং অন্ধকারের মাঝেও তিনি খুঁজেছেন আলো একজন চিকিৎসক বোমার নিচে থেকেও রোগীকে ছাড়েননি, কোনো অপরিচিত উদ্বাস্তু কাউকে আশ্রয় দিয়েছেন, কোনো কবি এখনো বিশ্বাস করেন শব্দের মধ্যেই করুণার পুনর্জন্ম সম্ভব।
এইসব ক্ষুদ্র অথচ অবিচল দয়ার চিহ্নগুলোই লেখকের মতে, উদাসীনতার বিরুদ্ধে নীরব সংগ্রাম।
শেষাংশে শাহ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন লেখেন, সম্ভবত মানুষ হওয়া মানেই এই— ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে দয়া বেছে নেওয়া। বিভীষণতার সম্ভাবনা নিয়েই জন্ম নেওয়া, কিন্তু মহিমান্বিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আমাদের গল্প এখনো শেষ হয়নি। শেষ অধ্যায়টি হয়তো এখনো লেখা বাকি, তাদের হাতে, যারা সহানুভূতির মৃত্যু মেনে নিতে অস্বীকার করে।




























