নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করল বিএনপি
- প্রকাশঃ ০৭:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 67
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহার ঘোষণা করেন। এতে জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় ও সুশাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারে বলা হয়, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি জানিয়েছে, এর মাধ্যমে কৃষকদের ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এ সুবিধা পাবেন।
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে আনন্দময় ও কর্মমুখী পরিবেশ গড়ে তুলতে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে ইশতেহারে।
এছাড়া ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব গঠন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি জানিয়েছে, এই ইশতেহার শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। দলটি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে বলেছে—ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই তাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
দলটি আরও বলেছে, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস-দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না।


















