যৌথ স্পনসর থাকলেও মিলছে না নিশ্চয়তা, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতে ভিসা নিয়ে উদ্বেগে বাংলাদেশিরা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা
- প্রকাশঃ ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯
- / 10
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসায় ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের প্রয়োগ এবং স্পনসরের আর্থিক যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একাংশ। দীর্ঘদিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অপেক্ষার পর সাক্ষাৎকার দিয়েও ভিসা প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কয়েকটি পরিবার। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বয়স্ক বাবা-মায়ের আবেদনও রয়েছে। একই সঙ্গে যৌথ স্পনসর পেতে অসুবিধা এবং আর্থিক নথি প্রস্তুত করা নিয়েও সমস্যায় পড়ছেন আবেদনকারীরা।
বাংলাদেশি আবেদনকারী মিজান সিদ্দিকী জানান, তাঁর বাবার অভিবাসন ভিসার প্রথম সাক্ষাৎকার হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ জুন। এরপর আবেদনটি দীর্ঘদিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ছিল। সম্প্রতি পুনরায় সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হলেও শেষ পর্যন্ত অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৪) ধারায় ‘পাবলিক চার্জ’ কারণ দেখিয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
মিজান সিদ্দিকীর বর্ণনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তাঁর বাবা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে কনস্যুলার কর্মকর্তা মনে করেছেন। তবে কোন আর্থিক বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রত্যাখ্যানের নোটিশে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে সিলেটের ষাটোর্ধ্ব এক বাংলাদেশি নারীর পরিবার। তাঁর ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং মিশিগানে বসবাস করেন। ছেলের আবেদনের ভিত্তিতে ওই নারী ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে প্রথম সাক্ষাৎকার দিলেও ভিসা পাননি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় আবেদনটির নিষ্পত্তি হয়নি।

গত ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকার দিতে গেলে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাঁকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি সরকারি সুবিধা নিতে পারেন, এমন আশঙ্কায় ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার ভিত্তিতে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে ‘পাবলিক চার্জ’ কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো সামগ্রিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। বয়স্ক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অন্যদের তুলনায় বেশি কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।
অনলাইনে ‘রিফিউজড’ দেখালেই চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান নয়
বাংলাদেশি আরেক আবেদনকারী জয়া সরকার জানিয়েছেন, তাঁর বাবার অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকার হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সাক্ষাৎকারের পর আবেদনটি ২২১(জি) ধারায় রাখা হয়। পরে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।
জয়ার দাবি, ২১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত হওয়ায় দূতাবাস পরে পাসপোর্ট ফেরত দেয় এবং ফোন করে স্থগিত থাকার বিষয়টি জানায়। গত ৪ অক্টোবর তাঁর বাবার আবেদনটি আবার হালনাগাদ হলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে সেটির অবস্থা ‘রিফিউজড’ দেখাচ্ছে।
তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় থাকা আবেদনও ২২১(জি) ধারায় প্রত্যাখ্যাত হিসেবে অনলাইনে প্রদর্শিত হতে পারে। প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকে। তাই প্রত্যাখ্যানের নির্দিষ্ট ধারা এবং দূতাবাসের লিখিত নির্দেশনা ছাড়া জয়ার বাবার আবেদনকে ‘পাবলিক চার্জ’ কারণে প্রত্যাখ্যাত বলা যায় না।
যৌথ স্পনসর পেতেও সমস্যা
স্পনসরশিপের আর্থিক শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন নিউইয়র্কে বসবাসরত এক বাংলাদেশি-আমেরিকান। তিনি তাঁর বোন, বোনের স্বামী ও তাঁদের সন্তানদের জন্য অভিবাসন ভিসার আবেদন করেছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চলতি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে চার সদস্যের পরিবারটির সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু তাঁদের স্পনসর করার জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের তুলনায় নিজের আয় কম বলে জানিয়েছেন তিনি।
ওই ব্যক্তির ভাষ্য, যৌথ স্পনসরের সহায়তা পেতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাউকে রাজি করাতে পারেননি। আর্থিক দায় এবং যাচাইপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। সাক্ষাৎকারের সময় ঘনিয়ে আসায় প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি প্রস্তুত করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে পরিবারটি।
পাবলিক চার্জ মূল্যায়নে যেসব বিষয় বিবেচিত হয়
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধান আগে থেকেই রয়েছে। এর আওতায় আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা, দক্ষতা ও আর্থিক সম্পদের পাশাপাশি স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় আসতে পারে।
তাই আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র বা আই-৮৬৪ ফরম জমা দিলেই ভিসা অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। বয়স্ক বাবা-মায়ের ক্ষেত্রে বয়স ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিস্থিতি মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। তবে বয়স বেশি হলেই ভিসা প্রত্যাখ্যান হবে, এমন স্বয়ংক্রিয় নিয়ম নেই। আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ ২০২২ সালের ‘পাবলিক চার্জ’ বিধিমালা বাতিল করেছে। নতুন বিধান ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান ওই তারিখ থেকে করা প্রবেশের আবেদন এবং ওই তারিখ বা তার পরে জমা দেওয়া অবস্থার পরিবর্তনসংক্রান্ত আবেদনে প্রযোজ্য। আগে গৃহীত ও বিচারাধীন অবস্থার পরিবর্তনসংক্রান্ত আবেদনের ক্ষেত্রে আলাদা প্রয়োগবিধি রয়েছে।
তবে বিদেশে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসন ভিসার সিদ্ধান্ত দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের বিধান ও নির্দেশনার অধীনে হয়। ফলে ঢাকায় আলোচিত প্রত্যাখ্যানগুলোর সঙ্গে সেপ্টেম্বরের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
স্পনসরের ন্যূনতম আয়ের শর্ত
অধিকাংশ পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনে স্পনসরের বার্ষিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। এটি নতুন কোনো শর্ত নয়। দারিদ্র্যসীমা প্রতিবছর হালনাগাদ হওয়ায় প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণও পরিবর্তিত হয়।
২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য সাধারণ স্পনসরের ন্যূনতম বার্ষিক আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের পরিবারের জন্য ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার এবং চার সদস্যের জন্য ৪১ হাজার ২৫০ ডলার প্রয়োজন।
পাঁচ সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আয় ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার, ছয় সদস্যের জন্য ৫৫ হাজার ৪৫০ ডলার, সাত সদস্যের জন্য ৬২ হাজার ৫৫০ ডলার এবং আট সদস্যের জন্য ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার। আটজনের বেশি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক সদস্যের জন্য ৭ হাজার ১০০ ডলার যোগ হয়। আলাস্কা ও হাওয়াইয়ে আলাদা আয়সীমা প্রযোজ্য।
পরিবারের সদস্যসংখ্যা গণনার সময় কেবল বাংলাদেশ থেকে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন, তাঁদের হিসাব করলেই হয় না। স্পনসর নিজে, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, নির্ভরশীল সদস্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগে স্পনসর করা ব্যক্তিদেরও হিসাবে রাখতে হয়। ফলে চারজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য প্রয়োজনীয় আয় সব ক্ষেত্রে চার সদস্যের পরিবারের আয়সীমার সমান হবে না।
আয় কম হলে যোগ্য পরিবারের সদস্যের আয় যুক্ত করা, গ্রহণযোগ্য সম্পদের প্রমাণ দেওয়া অথবা যোগ্য যৌথ স্পনসরের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যের আয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে আই-৮৬৪এ ফরম প্রয়োজন হয়। যৌথ স্পনসরকেও তাঁর নিজের পরিবার এবং যাঁদের দায়িত্ব নিচ্ছেন, তাঁদের ভিত্তিতে নির্ধারিত আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হয়। যৌথ স্পনসর থাকলেও মূল আবেদনকারীর স্পনসরকে সাধারণত নিজস্ব আই-৮৬৪ জমা দিতে হয়।
স্পনসরশিপের দায় আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক
স্পনসরশিপের অঙ্গীকার কেবল আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর নয়। আই-৮৬৪ একটি আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য আর্থিক অঙ্গীকার। সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া অথবা সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্মকাল অর্জন করা পর্যন্ত এ দায় বহাল থাকতে পারে। নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদানকারী সংস্থা স্পনসরের কাছে অর্থ ফেরতও চাইতে পারে।
আর্থিক যাচাইয়ের জন্য সর্বশেষ ফেডারেল আয়কর রিটার্ন, বর্তমান চাকরি ও বেতনের প্রমাণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদের নথি চাওয়া হতে পারে। আয়ের ঘাটতি সম্পদ দিয়ে পূরণ করতে চাইলে সম্পদের মালিকানা, দায়দেনা বাদ দেওয়ার পর মূল্য এবং তা নগদে রূপান্তরের সক্ষমতার প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর সম্ভাব্য চাকরির প্রস্তাব ‘পাবলিক চার্জ’ মূল্যায়নে সহায়ক হতে পারে, তবে তা আই-৮৬৪ ফরমের বিকল্প নয়।
স্পনসরের ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই নিয়েও কিছু পরিবারের উদ্বেগ রয়েছে। তবে সব স্পনসরের জন্য নির্দিষ্ট ন্যূনতম ঋণযোগ্যতার নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কিংবা যৌথ স্পনসরের সুযোগ বন্ধ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই। আর্থিক তথ্য যাচাই, ন্যূনতম আয়ের শর্ত এবং স্পনসরের আইনগত দায় পৃথক বিষয়।
কিছু ক্ষেত্রে ‘পাবলিক চার্জ’ বন্ডের সুযোগ
‘পাবলিক চার্জ’ কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রমাণ দিয়ে আপত্তি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ থাকতে পারে। যোগ্য যৌথ স্পনসর বা পর্যাপ্ত আর্থিক সম্পদের নথি সহায়ক হতে পারে, যদিও নতুন নথি জমা দিলেই অনুমোদন নিশ্চিত হয় না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ৫ আগস্ট জানিয়েছে, নির্বাচিত কিছু অভিবাসন ভিসার আবেদনে ‘পাবলিক চার্জ’ বন্ডের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে কনস্যুলার কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানাবেন। অন্য সব যোগ্যতা পূরণ হলে বন্ড অনুমোদনের ভিত্তিতে আগে ২১২(এ)(৪) ধারায় প্রত্যাখ্যাত ভিসা ইস্যুর সুযোগ থাকতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গ্রিন কার্ডের আবেদন নিষ্পত্তির দুটি নীতিগত পরিবর্তন নিয়েও আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালতে শিক্ষক সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন, অভিবাসী অধিকার সংগঠন এবং ছয়জন আবেদনকারী মামলা করেন। মামলাটি বিদেশে ভিসা সাক্ষাৎকারের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন বা অবস্থার পরিবর্তনপ্রক্রিয়া নিয়ে।
মামলাকারীদের অভিযোগ, মে মাসের নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে আবেদন করার সিদ্ধান্তকে নেতিবাচকভাবে বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগস্টের আরেক নীতিতে অতিরিক্ত প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ ছাড়াই কিছু আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। তাঁরা নীতিগুলো স্থগিত ও বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। তবে মামলা দায়ের হওয়াকে নীতিগুলো বাতিলের আদালতি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশি পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাওয়া বা পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আবেদন করলেই অভিবাসন ভিসা নিশ্চিত হয় না। স্পনসরের প্রকৃত আয়, পরিবারের সঠিক সদস্যসংখ্যা, আর্থিক অঙ্গীকার এবং আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রমাণ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স্ক বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে ইচ্ছুক পরিবার এবং যৌথ স্পনসরের ওপর নির্ভরশীল আবেদনকারীদের জন্য এসব শর্ত পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
























